রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় বিপর্যয়ের মুখে যশোরে গদখালীর ফুল চাষিরা

নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৬ বার পঠিত

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রথম ধাক্কার ক্ষতি কাটিয়ে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন যশোরে গদখালীর ফুল চাষিরা,কিন্তু বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন মাহমারীর দ্বিতীয় ধাক্কায়।সর্বাত্মক অবরোধের কারণে তারা দুই সপ্তাহ ধরে ফুল বেচতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, গদখালীর ছয় হাজার কৃষক তাদের ফুল বিক্রি করতে পারছেন না।

সবজির মত ফুলের পাইকারি বাজারগুলো খোলা রাখার অনুমতি দিলে ফুলচাষিরা কষ্ট করে হলেও বাঁচতে পারত।ঝিকরগাছার হাঁড়িয়া গ্রামের শাহাজান আলী এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে গোলাপ, জবা, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাসের পাশাপাশি জারবেরা চাষ করে ব্যাপক লোকসানে আতঙ্কে পড়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ফুল না তুললে নতুন করে আর কুঁড়ি আসে না। তাই গোলাপ ফুল কেটে ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে।প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই চাষি, পাইকার, মজুরের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠত যশোর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ফুলের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত গদখালী বাজার।

দূর-দূরান্ত থেকে ফুল কিনতে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আসতেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটের বাসের ছাদে সাজানো হত ফুল। পাঠানো হত দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ঢাকা-চট্টগ্রামের মত বড় শহরে ট্রাক-পিকআপ ও ভ্যান ভরে ফুল যেত। হাঁড়িয়া নিমতলা গ্রামের চাষি আলতাপ হোসেন , আসলাম হোসেন , রুহুল আমিন ও নন্দী ডুমুরিয়া গ্রামের গোলাম রসুলের জানালেন তাদের হতাশার কথা।

আলতাব হোসেন বলেন, এখন এগুলো শুধুই স্বপ্ন। আম্পান ঝড় ও করোনাভাইরাস ফুল চাষিদের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। আজ তারা দিশেহারা। ফুলের বাজার ১৫ দিন ধরে ক্রেতাশূন্য। ক্রেতা-বিক্রেতা নেই। ফুল বেচাকেনা বন্ধ। ক্ষেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে। চাষিরা বাগান থেকে ফুল কেটে ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছে। তাদের চোখে-মুখে বিষণ্নতার ছাপ। স্বাধীনতা দিবস ও পহেলা বৈশাখে ফুল বেচতে না পারায় এ অঞ্চলের চাষি ও ব্যবসায়ীদের অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, এ বছর তার উপজেলায় ২৭২ হেক্টর জমিতে গ্লাডিওলাস, ১৬৫ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, ১০৫ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ৫৫ হেক্টর জমিতে গাঁদা, ২২ হেক্টর জমিতে জারবেরা ও অন্যান্য ফুল চাষ করা হয়েছে প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে।চাষিরা ফুল বিক্রি করতে পারছেন না।

আবার ক্ষেতেও রাখতে পারছেন না। তুলে ফেলতে হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় হচ্ছে। উভয় সংকটে পড়েছেন তারা। গদখালি ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রনি আহম্মদও জানালেন তাদের বিপদের কথা। তিনি বলেন, কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেই চিন্তাই আমাদের মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষতি কোন জায়গায় গিয়ে ঠেকবে সেই ভাবনায় শঙ্কিত আমরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451