রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

কে বেশি অপরাধী ?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১ মে, ২০২১
  • ৪৩ বার পঠিত

ঃ মোশাররফ হোসেন মুসা ঃ
মোসারাত জাহান মুনিয়া নামক একজন সু্ন্দরী মেয়ের আত্মহত্যার পরে ফেসবুকে অনেকে প্রশ্ন করছেন- বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীর সাদাত, মোসারাত জাহান মুনিয়া, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক-কলামজীবী প্রমুখদের মধ্যে কে বেশি অপরাধী ? মানুষের মধ্যে ছয়টি রিপু সক্রিয় থাকে; যথা-১) কাম( যৌনসঙ্গ কামনা, যৌনক্ষুধা,  sex urge ইত্যাদি); ২) ক্রোধ(রাগ, উত্তেজনার বশীভূত হওয়া,  Angered ইত্যাদি) ; ৩) লোভ( লালসা, Cupidityইত্যাদি);৪) মোহ(মায়া, বিভ্রম, Illusion ইত্যাদি ); ৫) মদ(অহঙ্কার, গর্ব,আত্মগৌরব, Arrogance ইত্যাদি ) ও ৬) মাৎসর্য(পরশ্রীকাতরতা, অন্যের ভাল দেখতে না পারা, Envy ইত্যাদি ( ঋণ স্বীকার শওকত মাহমুদের একটি কলাম)। কয়েকদিন আগে গুলশানের এক ফ্লাটে মোসারাত জাহান মুনিয়া আত্মহত্যার পর একশ্রেণীর কলামজীবী প্রমাণের চেষ্টা করছেন- মুনিয়া অত্যন্ত লোভী মেয়ে ছিল।

লোভেই তাকে পাপের পথে নিয়ে গেছে। অতএব যত দোষ মুনিয়ার। এখানে বলে রাখা ভাল-এদেশে গরীবের মেয়ে সুন্দরী হওয়া অপরাধ। তারপরেও মুনিয়ার পিতা-মাতা নাই। পারিবারিক শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত । দেখাশোনা করতো তার বড় বোন( পিতা-মাতার বিকল্প কিছু হয় না)। সেক্ষেত্রে মুনিয়া ‘লোভ’ নামক রিপু দ্বারা দিশেহারা হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় ।

কিন্তু আকবর সোবাহানের পুত্র আনভীর সাদাত সবরকম শিক্ষা পাওয়ার পরেও ষড়রিপু দ্বারা আক্রান্ত থাকেন কেন? শুধু সে কেন, হুইপ পুত্র শারুন (না বারুন) সহ শত শত ধনীপুত্র ষড় রিপু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে নানারকম বেআইনি কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে । ঘটনাটির তিন-চার দিন পরেও বাংলাদেশ প্রতিদিন কোনো নিউজ করেনি। এ ঘটনায় প্রমাণীত হলো- তারা সকলে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া সুযোগ-সুবিধার প্রতি লালায়িত।

পীর হাবীবুর রহমানের মতো লম্বা কলামজীবী আনভীর সাদাতকে কোমল মনের অধিকারী বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। পুর্বে পত্রিকায় ধর্ম,কৃষি, রান্না-বান্না এসবের জন্য আলাদা পাতা থাকতো । এটাই পত্রিকার নিয়ম ছিল । ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এ নিয়ম ভেঙ্গে প্রত্যহ ধর্মজীবীদের লম্বা কলাম ছেপে তাদের সন্তুষ্ট রাখে। আবার তাসলিমা নাসরিনের( তিনি মুলত নারী সাংবাদিক) কলাম ছেপে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করে ( আমার বিশ্বাস তিনি মুনিয়াকে নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনে কিছু লিখবেন না)।

তাহলে ধরে নেওয়া যায়, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক, সহঃসম্পাদক,কলামজীবী, ধর্মীয় কলামজীবীসহ সাংবাদিকরা ষড় রিপু দ্বারা আক্রান্ত না হলেও অত্যন্ত তিনটি রিপু দ্বারা আক্রান্ত। সুফি সম্রাট লালন সাঁইয়ের সাধনার মুল কথা হলো- ষড় রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করে মানব স্তরে পৌঁছাতে হয়। উন্নত বিশ্বে রিপু দমনে হাজার রকম সাংস্কৃতিক শিক্ষা এবং প্রাত্যহিক জীবনে তার চর্চা রয়েছে । এখানে শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে রিপু দমনের কথা বলা হয়। কেউ উপযুক্ত সাংস্কৃতিক শিক্ষার কথা বলেন না।

উন্নত গণতান্ত্রিক বিশ্বে কেউ রিপু দমনে ব্যর্থ হলে প্রকাছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে একজন পর্ণ তারকা কিংবা একজন দেহ ব্যবসায়ীর ইনি অধিকার র রাষ্ট্রের নির্বাহীর ইনি অধিকার একই থাকে। ফলে পর্ণ তারকাকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করতে দেখা যায়। ভারতে কয়েক বছর গে ‘পিংক’ নামে একটি হিন্দি মুভি খুব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মুভিটির মুল থিম হলো- একজন নারী সে পতিতা হোক, স্ত্রী হোক কিংবা বান্ধবী হোক, সে যদি ‘না’ বলে তখনই থেমে যেতে হবে। ভারতের সংবিধানে সে অধিকার দেয়া ছে। মেরিকায় ১৮ বছর নীচের বয়সী মেয়েদের সাথে লিভ টুগেদার নিষিদ্ধ। আামাদের সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা আছে।

তারপরেও এ জাতীয় ঘটনা ঘটলে দেখা যায়, পুলিশ আইনের ফাঁক-ফোকর বের করে ক্ষতিগ্রস্তকে পতিতা বানানোর চেষ্টা করে। অর্থাৎ পতিতার আবার বিচার কি! বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন না থাকায় একশ্রেণীর লোক আবাসন শিল্পের নামে খাল-বিল-ডোবা দখল করে তাতে মাটি ভরাট করে হাই-রাইজ বিল্ডিং নির্মাণ করছে। ফলে রাতারাতি কোটিপতি হওয়া লোকগুলোর কোনো শপথ থাকে না। তাদের একটাই লক্ষ্য থাকে, যে কোনো উপায়ে টাকা কামানো, আর সেই টাকা বিদেশে পাচার করে দেওয়া।

এদের বিরুদ্ধে সুশীল সমাজ সহ রাজনীতিকদের কোনো প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। আশার কথা, ‘বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন’ মুনিয়া হত্যার বিচার চেয়ে পান্থপথে বসুন্ধরা মার্কেটের সামনে মানববন্ধন করেছে। আমেরিকা সহ উন্নত বিশ্বে পুঁজিপতিদের একটি জাতীয় চরিত্র রয়েছে । তারা বিদেশে পুঁজি পাচার করে না; দেশের দুর্যোগ মুহূর্তে এগিয়ে আসে, তারা গবেষণা কাজে বিশাল অঙ্কের অর্থ দান করে এবং মিশনারী কাজেও দুই হাতে অর্থ দান করে। সর্বোপরি তারা দেশের আইনকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে।

তাঁরা কর ফাঁকি দিলে জাতীয় সংবাদ হয়। ধনী পরিবারে এ জাতীয় যৌন কেলেঙ্কারি হলে প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করা হয় এবং আইনের দণ্ড মাথা পেতে নেয়া হয় । আনভীর সাদাত সপরিবারে দেশ ছেড়ে প্রমাণ করেছেন, তারা দেখতে হাতিসম হলেও জাগ্রত জনতার কাছে পিপিলিকা ছাড়া কিছুই নয়।

অতএব সার্বিক বিচারে কে বেশি দোষী, মুনিয়া, না আনভির গং? (বিঃদ্রঃআমি লোভের বশে বাংলাদেশ প্রতিদিনে কলাম লিখতাম। এ পত্রিকায় আর লিখবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার পাঠানো কোনো কলাম এ পত্রিকায় না ছাপানোর জন্য অনুরোধ করছি)।

লেখকঃ গণতন্ত্রায়ন ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষক, ঈশ্বরদী, পাবনা। Email: musha.pcdc@gmail.com,
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব যা সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয় ।)

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451