রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

করোনার ভারত ভেরিয়েন্ট সংক্রমণ খুলনায় !

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ২২ বার পঠিত

করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন (ভারত ভেরিয়েন্ট) সংক্রমন শুরু হয়েছে নাকি খুলনাতেও? করোনা আক্রান্ত ভারত ফেরত পাইকগাছা উপজেলার ধামরাইল গ্রামের আমিরুল ইসলাম সানার ছেলে আরিফ (১৩) করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসার পর গত ২৬ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন করোনা আক্রান্ত আমিরুল ইসলাম সানাকে (৫০) নিজ বাড়ী থেকে নিয়ে পুনরায় যশোরের হাসপাতালে প্রেরণ করেছিল। আজ রবিবার পাইগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক পেজে ভারত ফেরত করোনা আক্রান্ত রোগীর ছেলে করোনায় সংক্রমিত হবার খবরে এলাকায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- তাহলে কি করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন (ভারত ভেরিয়েন্ট) সংক্রমন শুরু হয়েছে খুলনাতে? এদিকে, ভারতীয় করোনার ধরণ কি না, সেটা আরও নিশ্চিত হতে আজ রবিবার পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করছে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সূত্রমতে, গত ১৮ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল সময়ের মধ্যে করোনা সংক্রমিত সাতজন যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন। তারা যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা পালিয়ে যান। গত ২৫ এপ্রিল বিষয়টি জানাজানি হয়। ভারতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় এই পালানোর বিষয়টি আতঙ্কের সৃষ্টি করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাতজন করোনা রোগীর মধ্যে ১৮ এপ্রিল একজন, ২৩ এপ্রিল পাঁচজন ও ২৪ এপ্রিল একজন আসেন। তাঁদের জরুরি বিভাগ থেকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। তাঁরা ওয়ার্ডে না গিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এই সাতজনের মধ্যে খুলনার দু’জন। তারা হলেন পাইকগাছা উপজেলার ধামরাইল গ্রামের আমিরুল ইসলাম সানা (৫২) ও রূপসা উপজেলার সোহেল সরদার (১৭)। যশোরের হাসপাতাল থেকে পালিয়ে তারা সরাসরি বাড়ী ফিরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথেই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোঃ আরিফ আহম্মেদ বলেন, ভারত থেকে আসা ৭জন করোনা পজিটিভ ছিলেন।

তাঁদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তির পর করোনা ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। ভর্তির টিকিট ওয়ার্ডে পৌঁছেছে, কিন্তু রোগীরা সেখানে যাননি। হাসপাতালে থাকতে হবে বলে সেখান থেকে তারা পালিয়ে যান। গত ২৫ এপ্রিল বিষয়টি জানা যায়। করোনার ভারতীয় যে ধরণ সেটা অনেক ভয়াবহ শক্তিশালী; সংক্রমিত করার শক্তিও বহুগুনে বেশি।

সে কারণে পাইকগাছার আমিরুল ইসলাম সানার ছেলে যে ভারত ভেরিয়েন্ট সংক্রমিত নন, সেটা নিশ্চিত করে এখন বলা যায় না। যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন এ প্রতিবেদকে বলেন, ভারত থেকে আসা সাতজন করোনা পজিটিভ রোগী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। তাদের পাসপোর্ট হাসপাতালের সিস্টারদের কাছে জমা থাকার কথা। কিন্তু সেটা ছিল না। কেন সেটা ছিল না এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পালিয়ে যাওয়া রোগীদের ব্যাপারে নিজ নিজ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে চিঠি দেয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের পুনরায় হাসপাতালে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এসময়ের মধ্যে তারা অন্যদের যে সংক্রমিত করিনি, সেটার নিশ্চয়তা কে দেবে? হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ দিলীপ কুমার রায় বলেন, পালিয়ে যাওয়া ৭জন করোনা রোগীকে হাসপাতালে ফেরত আনা হয়েছে।

হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসা চলছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। এদিকে, দ্রুত সংক্রমণশীল করোনার এই ভেরিয়েন্টটির সংক্রমণ খুলনাতে ছড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও। তারা বলছেন, খুলনার পাইকগাছা ও রূপসার দু’জন রোগী যশোরের হাসপাতাল থেকে পালিয়ে নিজ বাড়ীতে ফিরে পরিবারের সাথে বসবাস করে। তাদের পরিবার-পরিজন আমার এলাকায় অবাধ চলাফেরা-যাতয়াত করেছেন।

এখন নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না- যেহেতু পাইকগাছার আমিনুল ইসলাম সানার ছেলে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। পাইগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “যশোর থেকে ভারত হতে আক্রান্ত পাইকগাছায় পালিয়ে আসা করোনা রোগীকে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম। অতীব দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে উক্ত রোগী তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভয়ঙ্কর করোনা স্ট্রেইন সংক্রমিত করেছেন। তার ছেলের করোনা পজিটিভ এসেছে। ইতোমধ্যে উক্ত বাড়ি গত চারদিন ধরে লকডাউন অবস্থায় আছে। ধামরাইলবাসীসহ উক্ত এলাকার জনগণকে সাবধানে থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, “পাইকগাছার ধামরাইল গ্রামের ভারত ফেরত আমিরুল ইসলাম সানার ছেলে আরিফ (১৩) করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত মধ্যরাতে দুই মে রবিবার বিষয়টি জানতে পেরেছি। ধারণা করছি-পশ্চিমবঙ্গের ধরণটাই সে সংক্রমিত হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের লকডাউন করেদিয়েছি।

এখন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই তাদের খাদ্য সরবরাহ করছি। বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত।” খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ভারত ফেরত আমিনুল সানার ছেলের করোনা পজেটিভ এসেছে। আমরা আজ রবিবার আবার নমুনা সংগ্রহ করছি, কাল সকালে ঢাকায় পাঠাবো। এই নমুনাটি পরীক্ষা করা হবে-করোনার ধরণটি ভারতীয় কি না, সেটা নিশ্চিত হবার জন্যই। আতঙ্কিত হবার কিছুই নেই, পাইকগাছার ওই বাড়ীটি এখন সম্পুর্ণ লকডাউনে রয়েছে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451