রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

আরটিভিতে ”তালমিছরি না হাওয়াই মিঠাই-২”

বিনোদন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ২৩ বার পঠিত

আরটিভিতে ঈদের বিশেষ ধারাবাহিক নাটক – সাগর জাহানের রচনা ও পরিচালনায়-”তালমিছরি না হাওয়াই মিঠাই-২”। প্রচার হবে ঈদের দ্বিতীয়দিন রাত ৯টা৩০ মিনিটে।

গল্পসংক্ষেপ : আগের সিজনের গল্প যেখানে শেষ হয়েছে এই সিজনে ঠিক সেখান থেকেই গল্প শুরু হয়। আগের সিজনের শেষ দৃশ্যটি থাকে আসলে রুস্তমের কল্পনা।দৃশ্যটি ভেবে যখন শোকে মুহ্যমান হয়ে আছে, সবাইকে বিদায় নিয়ে আবার যখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনই অনিলা বাস্তবিকই ফেরত আসে।

রুস্তম আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেতেই ভাবে আবার তার কল্পনা না তো। সবার সাথে কথা বলে, সবাইকে দেখিয়ে কনফার্ম হয় যে না এখন সে ঠিকই দেখছে তখন পাগলের মত নাচতে শুরু করে। কিন্তু রুস্তম এই আনন্দ বেশী সময় ধরে রাখতে পারেনা। একটু কথা বলার পরই আবার রুস্তম জানতে পারে অনিলা তার প্রেমিক রুমন ইচ্ছে করে সব কিছু ঘটিয়ে বাংলাদেশে চলে আসছে। অলরেডী সে কক্সবাজারের পথে। তাকে সারপ্রাইজ দিয়ে কক্সবাজারেই আসছে বিয়ে করার জন্য।

এবং রুস্তম কে অনুরোধ করে বলে এই বিয়ের সব আয়োজন করে দেয়ার জন্য। রুস্তম আয়োজন করে দিবে এই বিশ^াসের কারণেই সে আসলে এই রিসোর্টে এসেছে আবার। রুস্তম আবারো যেন ভাষা হারিয়ে ফেলে। আবারো কি আগের সিজনের মতো অভিনয় কররে কাঁদবে, না হাসবে বুঝতে পারেনা। মনে আঘাত পেলেও তার উপর অনিলার এই নির্ভরতা দেখে সে সহযোগীতা করতে রাজী হয়। বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সে নিজে করবে বলে কথা দেয়। মূলত নাটকের শুরুটা আসলে এভাবেই…

রুস্তম অনিলাকে কথা দিলেও রিসোর্টের কেউ এই বিষয়টা পছন্দ করেনা। রাজা, রিনা, ফারহান, লিটন, নিঝুম, ফারহান কেউ বিষয়টা মেনে নিতে চায়না। সবাই জানে রুস্তম অনিলাকে কতটা ভালোবাসে। কোন ভাবেই রুমনকে মানতে পারেনা। রুমনের মনোভাব পুরাই বিদেশিদের মতোই।

রুমন একটা রুম বুকিং দিয়েছিলো কিন্তু হোটেল মালিক লিটন এসে জানায়- অবিবাহিত জুটিদের এভাবে এক রুমে থাকা নিষেধ। অনিলাও বিয়ের আগে এভাবে এক রুমে থাকতে চায়না। তখন রুমন বলে, ঠিক আছে- বিয়ে না করলে যদি এক রুমে না থাকা যায়, তাহলে সে আজকেই বিয়ে করবে। সে কাজীর খোঁজে বের হয়। প্রথমে রুস্তমকে বলে রাতের ভেতরেই কাজি নিয়ে আসতে। রুস্তম কাজি খুঁজতে শুরু করে কিন্তু রাতের ভেতরেই কাজি বের করা তো এত সহজ না।

যাকেই সে কাজির কথা বলে, সবাই বলে রুস্তম বিয়ে করলে কাজি আছে, অন্য কারোর জন্য নেই। রুমন রাজাকে বলে কাজি নিয়ে আসতে। রাজা রাজি হয়, অনেক ডলারও নেয় কাজি আনা বাবদ। কাজি আসবে ভেবে মনে খুব আনন্দ নিয়ে বসে থাকে রুমন। অনেক সময় পর রাজা ব্যাগে করে কিছু কাজি পেয়ারা নিয়ে এসে রুমনকে দিয়ে বলে- কাজি এনেছে সে, এটাই পিওর কাজি। রুমন রাজাকে দৌড়ানি দেয়। আসলে কোন ভাবেই কেউ এই বিষয়টা নিতে পারেনা। রুস্তম সত্যিকারের ভালবাসা যে কি সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে। ভালবাসলেই যে কাউকে পেতে হবে তেমন কোন কথা নেই। কিন্তু কোন লাভ হয় না। যাই হোক কোন ভাবেই কাজি জোগাড় হয়না, রুমন বিয়েও করতে পারেনা সেই রাতে।

এর ভেতর রুস্তম সবার মুখ বন্ধ করলেও ফারহানকে যেন পারছেই না। ফারহান রুস্তমকে হুমকি দিয়ে বলে সে অনিলাকে বলে দিবে যে রুস্তম তাকে ভালোবাসে। এবং ফারহান সবাইকে নিয়েই বলবে। তাই রুস্তম বুদ্ধি করে নিজেই অনিলাকে বলে দেয় যে- ফারহান তার নামে মিথ্যা করে এসব বলবে, সে যেন বিশ^াস না করে। কিন্তু পরদিন নিঝুম অনিলাকে প্রথম বলে যে রুস্তম তাকে ভালোবাসে। অনিলা রুস্তমকে ধরলে রুস্তম অস্বীকার করে। বলে সে ভালোবাসেনা।

কিন্তু একই দিন ফারহান আবার একই কথা বলে, রুস্তম আবার অস্বীকার করে। কিন্ত পরদিন লিটনও যখন একই কথা বলে তখন অনিলা রুস্তমকে খুবই শক্ত করে ধরে। রুস্তম এবারও অস্বীকার করার চেষ্টা করে কিন্তু আগের মত জোরালো করে পারেনা। রুস্তম বলে তার ভালোবাসা এখানে বিষয় না, ভালোবাসা মানে পেতেই হবে এমন কিছুও না। ভালোবাসার মানুষের ইচ্ছা পূরণ। সব শুনে অনিলার এক অন্য রকম ভালো লাগার জন্ম দেয়। যেটা সে প্রকাশও করতে পারছে না।

পরদিন রুমন কোথাও বেড়াতে নিয়ে যায় অনিলাকে। গিয়ে বলে- রিসোর্টে ফিরে তারা বলবে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এবং একই রুমে তারা থাকবে। অনিলা প্রতিবাদ করে কিন্তু রুমন যেন মানতেই চায়না। অনিলা রাগ করেই চলে আসে।

রিসোর্টে আসার পর, ফারহান কিছু ফুটেজ দেখায়। সে রুস্তমকে নিয়ে ইউটিউবে যে চুপা মজনু সিরিজ করছে সেগুলো দেখায়। অনিলা না থাকাতে রুস্তম কেমন করছে, কত কষ্ট বুকে নিয়ে বিয়ের আয়োজন করছে সব দেখায়। অনিলা কিছুটা হলেও বুঝতে পারে রুস্তম তাকে ভালোবাসে।

কিন্তু রুস্তমের একটাই কথা- অনিলা একটা ছেলেকে ভালোবাসে.. মানে অনিলা তাকে বিয়ে করতে পারলেই সুখি হবে। রুস্তম সেভাবেই অনিলাকে সুখি করবে। আর আজ যদি অনিলা ওই রুমনকে বা রুমনের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেম ছেড়ে তার কাছে চলে আসে তাহলে তো কাল তাকে ছেড়েও অন্যের কাছে চলে যাবে। অনিলা এই কথা শুনে আসলেই বিপদে পড়ে। আসলেই তো তাই। সে কি করবে তাহলে?

এর ভেতর পরের দিনই রুমন একটা ঘটনা ঘটায়- কোথা থেকে সে যেন একজন কাজি জোগাড় করে ফেলে। কাজি নিয়ে আসে রিসোর্টে। কিন্তু নিঝুমের সাথে প্রথমে দেখা হয়, নিঝুম বিয়ে ঠেকানোর জন্যই মিথ্যা করে বলে ফেলে- অনিলার তো বিয়ে হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে যখন সে এখানে একা ছিলো তখন তার বাবা রুস্তমের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।

এই কথা শুনে রুমন অনিলার বাবার কাছ থেকে জানতে পারে যে অনিলা আসলেই রুস্তমকে বিয়ে করার জন্য তার কাছে নিয়ে আসছিল। রুমনের মাথায় আগুন চড়ে যায়, সে অনিলার সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। অনিলাও বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে রুমনের জন্যই রুস্তমকে নিয়ে বাবার কাছে অভিনয় করেছিল। কিন্তু রুমন বোঝেনা। রুমনের এই নতুন চেহারা দেখে অনিলা অবাক হয়ে যায়। এভাবে নানা ভাবে অনিলা রুমনকে নতুন করে চিনতে থাকে। এতদিন সে যে রুমনকে চিনতো এই রুমন সেই রুমন না।

এক সময় রুমন বলে সে অনিলাকেই বিয়ে করবে। রুস্তমের সাথে যা হয়েছে হয়েছে তার কিচ্ছু যায় আসেনা। কিছুই লাগবেনা কিন্তু বিয়ে করবে। অনিলার আসলে বুঝতে বাকি থাকেনা কি উদ্দেশে রুমন এমন বিয়ে করার জন্য পাগল হয়েছে। কোন এক সময় রুমন অনিলার সাথে রিসোর্টের বাইরে সিন ক্রিয়েট করে। রুস্তম সব দেখে। আবার যখন রুমন অনিলার গায়ে হাত তুলতে যায়, রুস্তম এসে রুমনের হাত চেপে ধরে। রুস্তম বলে সব পরিস্কার হয়ে গেছে তার কাছে। সে বুঝতে পেরেছে এই রুমন অনিলার যোগ্যনা।

অনিলা রুমনের কাছে ভালো থাকবেনা। সে আসলে এতদিন এইটা বোঝার জন্যই অপেক্ষা করেছে। এখন যখন সে বুঝতে পেরেছে রুমনের কাছে অনিলা ভালো থাকবেনা তখন রুমনকে সে কোন ভাবেই অনিলাকে বিয়ে করতে দেবেনা। এমনি অনিলা চাইলেও দিবেনা। কারন সে অনিলার ভালো চায়। ভালো চায় কারন সে অনিলাকে ভালোবাসে।

অনিলা এবার রুস্তমকে পুরোপুরি বুঝতে পারে। বুঝতে পারে কেন রুস্তম এতদিন তার নিজের ভালোবাসা বুকে চেপে ছিলো। রুমনের সাথে রুস্তমের পার্থক্যও তার কাছে পরিস্কার হয়ে যায়। সবাই মিলে পারলে বিয়ের আয়োজন করে ফেলে। সবাই মিলে অনিলার বাবার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যায়। কিন্তু অনিলার বাবা সেই আগের অবস্থানেই থাকে। অনিলার বাবা কোন ভাবেই মেনে নিবে না এই বিয়ে। রুস্তমের পায়ের বিষয়টা সে মানবেই না। রুস্তম কোন দিক থেকেই তার মেয়ের যোগ্য না। সবার মন খারাপ হয়ে যায়। তারপর দিনই খবর আছে অনিলা খুব ভোরে নিজ থেকে এক্সিড্যান্ট করে হসপিটালে। সবাই হসপিটালে যায়। তারপর….

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451