রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

আমতলীতে জমছে ঈদবাজার। বেশী বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানী বারিশ ও ইন্ডিয়ান বুটিক্স

আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমতলী প্রতিনিধি ( বরগুনা) :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ১০ বার পঠিত

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে জমে উঠেছে আমতলীর ঈদ বাজার। শিশু, নারী-পুরুষের পদচারনায় সরগরম বিপণি বিতানগুলো। সবচেয়ে কদর বেশী ইন্ডিয়ান-পাকিস্তানী পোষাকের। ক্রেতারা তাদের পছন্দ মত জামা-জুতা পোশাক-প্রসাধনী ইত্যাদি ঈদপন্য কিনে নিচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বাজারে ক্রেতাদের ভীড়ও তত বাড়ছে। এছাড়া পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত টেইলার্স কারিগড়রা। রাত জেগে কাজ করছেন তারা। গত বছরের চেয়ে এ বছর পোশাক তৈরি বেশি হচ্ছে বলে দাবী করেন টেইলার্স মোঃ জাফর মিয়া। গত বছরের তুলনায় এ বছর ঈদ বাজার অনেক জমজমাট।

জানাগেছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রামণের আতঙ্ক বিরাজ করলেও থেমে নেই মানুষ। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মানুষ ততই বাজারমুখী হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে মানুষের ক্রয়-বিক্রয়। স্বাস্থ্য বিধি রক্ষায় প্রশাসনের তেমন পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ সচেতন নাগরিকের। শুক্রবার থেকে ঈদ বাজার জমে উঠেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ঈদ বাজারে ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী পোশাকের চাহিদা বেশী। মেয়েদের পাকিস্তানী বারিশ পোশাকটি প্রকার ভেদে ৩ হাজার ৫ ’শ থেকে ৫ হাজার ৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমতলীতে বারিশ ফ্যাশন ও ইন্ডিয়ান বুটিক্স মানেই ঈদ আনন্দ।

নিউ মাতৃছোয়া বস্ত্রালয়ের সেলসম্যান বাসুদেব নাথ ও কালাম প্যাদা বলেন, পাকিস্তানী বারিশ, ইন্ডিয়ান বুটিক্স, হাফ সিল্ক ও ভিনয় থ্রিপিস বেশী বিক্রি হচ্ছে। পার্টি শাড়ী, গোলভানু, স্বর্ণকাতান, কাতান, ইন্ডিয়ান সিল্ক, পাকিস্তানী জামদানী, টাঙ্গাইল, সিনথেটিক্স জামদানী, ঢাকাইয়া জামদানী, কুচি প্রিন্স শাড়ী, লংফ্রোগ ও ল্যাহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে। তারা আরো বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর বিক্রি অনেক ভালো।

আমতলী বাজার ঘুরে দেখাগেছে, ইন্ডিয়ান বুটিক্স ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার, পাকিস্তানী বারিশ ৩ হাজার ৫’শ থেকে ৫ হাজার, তাওক্কাল ৪ হাজার ৫’শ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকন বস্ত্রালয়ে অবন্তিকা ১০ হাজার থেকে ১৬ হাজার, জোবেদা ৬ হাজার ১০ হাজার, সাকিলা ৪ হাজার ৫’শ থেকে ১০ হাজার, নিত্তি ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার, বিবেক ৩ হাজার ৫’শ থেকে ৫ হাজার, লিভিনা ৩ হাজার ৫’শ থেকে ৫ হাজার ৫’শ, ফিওনা ৬ হাজার ৫’শ থেকে ৮ হাজার ও আমিরাও ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শাড়ী সাউথ কাতান ৫ হাজার ৫’শ থেকে ১৬ হাজার, জর্দান সিল্ক ৪ হাজার ৩’শ থেকে ৮ হাজার ৩’শ টাকা ও জামদানী ৫ হাজার ৩’শ থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা শিক্ষক জালাল উদ্দিন এ বছর পোশাকের ধরন বদলে গেছে এবং দামও একটু বেশী।

ক্রেতা সোনিয়া আক্তার লিয়া বলেন, পাকিস্তানী বারিশ ফ্যাশনের একটি থ্রিপিস ৪ হাজার ৫’শ টাকায় ক্রয় করেছি। তিনি আরো বলেন, দাম একটু বেশী হলেও ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রেতা সুমাইয়া বলেন, নিউ মাতৃছোয়া বস্ত্রালয় থেকে কেনাকাটা করেছি। চাহিদামত মালামাল পাওয়া যায়।

নিউ মাতৃছোয়া বস্ত্রালয়ের পরিচালক জিএম মুছা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিক্রি অনেক ভালো। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। সেলসম্যানদের ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সিরাজ উদ্দিন বস্ত্রালয়ের মালিক কাউন্সিলর রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, পাকিস্তানী বারিশ, বিবেক থ্রিপিস বেশী বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, করোনার মধ্যে গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রয় ভালো।

আকন বস্ত্রালয়ের মালিক মোঃ কামাল আকন বলেন, করোনার মাঝেও বিক্রয় ভালোই হচ্ছে। দামও সাধ্যেও মধ্যে তাকায় মানুষ সাচ্ছন্দে কিনে নিচ্ছে।
সোমবার আমতলী পৌর শহরের আকন বস্ত্রালয়, মদনমোহন বস্ত্রালয়, সিরাজ উদ্দিন বস্ত্রালয়,ইসলামিয়া বস্ত্রালয়, মাসফি চয়েজ ও সারমিন ফ্যাসন হাউস ঘুরে দেখা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নারী ও পুরুষরা মিলে পছন্দের পোশাক ক্রয় করছে। এ সকল বিপণি বিতানগুলোতে ভিনয় , ল্যাহেঙ্গা, জর্জেট জামদানী, সিল্ক, টাঙ্গাইল, লোন ও বারিশ থ্রিপিস বেশী বিক্রি হচ্ছে।

আমতলী থানার ওসি শাহ আলম হাওলাদার স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে বাজারে আসার কথা ব্যক্ত করে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করে মানুষের বাড়ী ফিরে যেতে যেন সমস্যা না হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451