প্রায় দুই দশক ধরে আলোচনার পরে ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য শুরু হবে। ইইউ এবং ভারত মিলিত ভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে এবং এদের হাতেই আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বেশিরভাগ রাসায়নিক, যন্ত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, বিমান ও মহাকাশযান রপ্তানিতে ধীরে ধীরে শুল্ক কমিয়ে এনে তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।

ইউরোপে তৈরি গাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে এখন ১১০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয় ভারতে, তা নামিয়ে আনা হবে মাত্র ১০ শতাংশে। তবে এর ক্ষেত্রে বছরে আড়াই লক্ষ গাড়ি রপ্তানির একটা সীমা বেঁধে দেয়া হবে।

সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে গত জুলাই মাসে একটি চুক্তির ফলে সেদেশে তৈরি গাড়ি ভারতে রপ্তারিন সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজারে। ওয়াইন, বিয়ারের মতো মদ এবং অলিভ তেল ইইউ থেকে আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্ক ছাড় দেবে ভারত।

আবার ভারত থেকে যত রপ্তানি হবে, প্রায় সব পণ্যই ইইউতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছে দিল্লি। এগুলোর মধ্যে থাকবে বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প, গয়না ও রত্ন রপ্তানির ক্ষেত্রে হয় শুল্ক কমানো হবে বা নিঃশুল্ক হবে।

চা, কফি, মশলা এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে যেমন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সুবিধা পাবে ভারত, অন্যদিকে দুগ্ধজাত পণ্য, খাদ্যশস্য, পোল্ট্রিজাত পণ্য, সয়াবিনসহ কিছু খাদ্যপণ্য ও সবজির ক্ষেত্রে ভারত বিচক্ষণতার সঙ্গে সুরক্ষা কবচ রেখেছে যাতে দেশীয় প্রয়োজন আর রপ্তানি বাণিজ্যের মধ্যে একটা ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।

দিল্লি আর ব্রাসেলস এও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পেশাজীবীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্র যাতায়াতের নিয়ম সহজতর করা হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস্’, অর্থাৎ সব চুক্তির সেরা চুক্তি বলে বর্ণনা করা হচ্ছে দুই পক্ষে থেকেই।
সূত্র: বিবিসি