ভোলা শহরের হাবিব মেডিকেলে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে স্বজনরা মেডিকেলে হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালায়। এ সময় রাস্তায় শত শত মানুষ নেমে আসে বিচার দাবী জানায়।

মেডিকেলে হামলার খবর পেয়ে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারা যাওয়া প্রসূতির নাম ফাবিয়া। সে বাপ্তা ইউনিয়নের ৩নং ওয়াার্ডের মহাজনের পুল এলাকার পুরাতন মাতাব্বর বাড়ির মো: কালামের মেয়ে।

রোগীর স্বজনরা জানান, ফাবিয়ার প্রায় দেড় বছর পূর্বে ধনিয়া তুলাতুলি এলাকার মো: নাহিদের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ফাবিয়া সন্তান সম্ভবা হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সোমবার দুপুরে ভোলা শহরের হাবিব মেডিকেলে ভর্তি করে তার পরিবার।

এসময় ওই মেডিকেলের ডাক্তার ফাবিয়াকে দেখে তাকে নরমাল ডেলিভারির কথা বলে। দুপুর আড়াইটার দিকে ওই মেডিকেলের নার্স তাকে একটি ইনজেকশন পুশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাবিয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সাথে সাথেই তার স্বজনরা কান্না-কাটি করে চিৎকার করতে থাকেন।

এ খবর ফাবিয়ার বাড়ীর অন্য স্বজনদের কাছে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজনরা মেডিকেলে এসে ভাংচুর চালায়। এ সময় সাধারণ মানুষও রোগীর স্বজনদের সাথে এক হয়ে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে হাবিব মেডিকেলের বিরুদ্ধে বিচার দাবী করে। হাবিব মেডিকেলে প্রসূতীর মৃত্যু এবং সেখানে হামলা-ভাংচুরের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।

এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ প্রসূতির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাবিব মেডিকেলে প্রসূতীর মৃত্যুর ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রসূতীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় পুলিশ হাবিব মেডিকেলের মালিক পক্ষের ডা. মিজানুর রহমান ও মো: ছাদেক মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, এর আগেও ভোলা শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় একাধিক প্রসূতীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই সব ঘটনায় দোষীদের শাস্তির ব্যাপারে কোন অগ্রগতি দেখেনি সাধারণ মানুষ। দিনে দিনে ক্লিনিকগুলোতে প্রসূতী মায়ের মৃত্যুর সারি দীর্ঘ হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।