ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সারা দেশের মতো গাজীপুরেও নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জেলা প্রসাসন ও পুলিশ। এসব পরিকল্পনায় শুটিং স্পট, রিসোর্ট, জনসাধারণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা ও অবৈধভাবে জ্বালানি বিক্রি বন্ধসহ বিভিন্ন নির্দেশ দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

এমন পরিকল্পনায় এবারের নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। সাধারণ ভোটার ও গণবিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ লক্ষ্যে এক যোগে গাজীপুর ৫টি আসনের সংসদ ভোট ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সারা দেশের মতো গাজীপুরেও নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

এ লক্ষ্যে সব শুটিং স্পট ও রিসোর্ট চার দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। গত বৃহস্পতিবার রাতে জিএমপি এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। মোহা. ইসরাইল হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুলিশ আইন ২০১৮-এর ৩১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরীর নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত সব শুটিং স্পট, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হবে।

এ গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনায় যেকোনো ধরনের কার্যক্রম ও জনসমাগম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে নির্বাচনের সময়ে অনাকাঙ্খিত সমাগম, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে এবং ভোটের কার্যক্রম নির্বিঘœ রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। অপরদিকে একই লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও যান চলাচল নির্বিঘœ এবং নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ বিভিন্ন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন।

গাজীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলম হোসেন স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রাস্তা, সরকারি জায়গা ও জনসাধারণের চলাচলের পথে গাছের গুড়ি, কাঠ, করাতকলজাত দ্রব্য, বাসাবাড়ি নির্মাণ সামগ্রী বা অন্যান্য বস্তু রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা জনদুর্ভোগের পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন ও জরুরি সেবায় বিঘœ সৃষ্টি করছে।

এ গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২ ও সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী সরকারী রাস্তা, জনগণ বা জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থানে কাঠ, গাছের গুড়ি বা করাতকলজাত দ্রব্য রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দন্ডনীয় অপরাধ। এছাড়াও একই স্বাক্ষরিত অপর এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুমোদিত ফিলিং ব্যতীত খোলা বাজারে অবৈধভাবে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন তেল মজুদ ও বিক্রয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরণের কর্মকান্ড জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশের জন্যও গুরুতর হুমকি স্বরূপ।

এ গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খোলা বাজারে অবৈধভাবে বিক্রিত জ¦ালানি তেল অপরাধীচক্রের নিকট ব্যবহৃত হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য প্রস্তুতের ঝুঁকি বাড়ায় বিধায় ভোটকেন্দ্র, জনসমাবেশ, যানবাহন ও সাধারণ জনগণের জীবন- সম্পদের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী খোলা বাজারে অবৈধভাবে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন তেল মজুদ ও বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়াও লাইসেন্সধারীগণের আগ্নেয়াস্ত্র জমা, বহন ও প্রদর্শন না করা এবং যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্তসহ বিভিন্ন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন। তবে প্রশাসনের এমন পরিকল্পনায় এবারের নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

এসব গণবিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গাজীপুর-১ এর সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান,  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব আইন অমান্য করলে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।