সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৯২৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করেছে প্রশাসন। প্রমত্তা যমুনা নদী বিধৌত ৩টি সংসদীয় আসনে চরাঞ্চলের ভোটের নিরাপত্তায় নির্বাচনের আগেই সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে।
এসব ক্যাম্পে দায়িত্বরতরা ভোটের আগে ও পরে ভোট কেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটের সরঞ্জাম আনা নেওয়া করবেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জানাগেছে,যমুনা নদীর পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেন জানান,সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে ভোটের নিরাপত্তায় ভোটের আগের দিন উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এরমধ্যে ওমরপুর ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর ৩০ সদস্য ও বিজিবির ২০ সদস্যের টিম অস্থায়ী ক্যাম্প করবে।
এছাড়াও মোবাইল টিম হিসেবে ৩টি ভাগে ১৫ থেকে ২১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি অবস্থিত ঘোরজান ইউনিয়নে ও স্থল ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাবাহিনীর ৩৫ সদস্যের একটি টিম অস্থায়ী ক্যাম্প করবে। এছাড়াও ৬ জন পুলিশ সদস্য মোবাইল টিম হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। চৌহালী উপজেলায় মোট ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে অতীতে যে সব কেন্দ্রগুলোতে অপরাধ প্রবণতার অভিযোগ ছিল সেই ধরনের ১৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অপরদিকে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান,সিরাজগঞ্জ-১ আসনে যমুনা নদীর পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত ৬টি ইউনিয়নে ভোটের নিরাপত্তায় ১০০জন সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। ৪/৫ দিন আগে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নে ৪০ সদস্যের একটি বিজিবির টিম এবং রবিবার সেনাবাহিনীর ৬০ সদস্যের ২টি টিম চরগিরিস ও মনসুরনগর ইউনিয়নে ক্যাম্প করেছে। এদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও মোবাইল টিমের দায়িত্বে থাকবেন।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসফিকা হোসেন জানান,সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল সোনাতনী ইউনিয়নে ১০ ফেব্রুয়ারি ৩০ সদস্যের সেনাবাহিনীর টিম ক্যাম্প করবে। এছাড়াও পুলিশ সদস্যরা মোবাইল টিম হিসেবে কাজ করবেন। উপজেলায় মোট ১৬০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন,জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮জন। আর ৯২৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮১ টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ৪৬৪টি ভোট কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ভোটের নিরাপত্তায় ১৭জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৩৭৪জন সেনা সদস্য, ৯৬ জন র্যাব সদস্য, ৩৬০ জন বিজিবি সদস্য, ১ হাজার ৯৮৪ জন পুলিশ, ১২ হাজার আনসার সদস্য নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ও ভোটারের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ সদস্যদের কাছে অন্তত ৩০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদমর্যাদার নিয়োগকৃত ৬ জন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা যাবে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন,দুর্গম চরাঞ্চলসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করে করণীয় ঠিক করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্র সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত ৩টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের যাতায়াতের জন্য নৌকা, ঘোড়ার গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বিধি মোতাবেক প্রতিটি কেন্দ্রের পাশাপাশি মোবাইল ও স্টাইকিং ফোর্স, টহল ও ভোটের মালামাল আনা নেওয়ায় দায়িত্ব পালন করবে।