নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে ভোট কিনতে টাকা বিতরন এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর শাখা নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সৈয়দপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের শহর আমির শরফুদ্দিন খান ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সোমবার রাতে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ার তিলখাজা রোডে জাপা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে ভোট কেনার জন্য অবৈধভাবে টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান।
টাকা বিতরনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্হানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে টাকা বিতরণ কারিরা পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর ফলে রাতে পুনরায় টাকা বিতরন কালে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম মোবাইল কোর্ট ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও অফিস তল্লাশিতে গড়িমসি করা হয়। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নামে লাঠিচার্জ করলে অন্তত ২০–২৫ জন সাধারণ মানুষ আহত হন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত,কালো টাকা বিতরণে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার,সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর অপসারণ,এবং নির্বাচনী আচরণবিধির কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচন বর্জনসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. ওয়াজেদ আলী, এনসিপি সৈয়দপুর শাখার আহ্বায়ক জাবেদ আক্তারি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম মানিক এবং এনসিপির নেতা মঞ্জুর আলম তন্ময় এছাড়াও জাপা থেকে শব্দ বিএনপিতে যোগদান করা নেতা জয়নাল আবেদীন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, নতুন বাবু পাড়ায় আমার নির্বাচনী অফিস। সেখান থেকে কর্মীদের পারিশ্রমিক দেয়া হতো।
ঘটনার দিন ও রাতে তাদের পারিশ্রমিক দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু আওয়ামী সরকার শাসনামলে যুবলীগ কর্মী ও বর্তমান জামাতের কর্মী সাংবাদিক পরিচয় দানকারী জাকির সন্ত্রাসী তার বাহিনী দ্বারা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসী জাকিরের নির্দেশে আমার দুটো গাড়ি ভাংচুর করা হয়। গুরুত্ব আহত করা হয় আমার ৯ জন নেতা কর্মীকে।
খবরটি ছড়িয়ে পরলে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল এলে তারা পালিয়ে যায়। এঘটনায় তিনি নীলফামারী জেলা প্রসাশক, পুলিশ পরিদর্শক ও স্হানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন বলে জানান। রাতেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।