ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ধরা হয় দুই দেশের চরম উত্তেজনাকর এক লড়াই। দুই দেশের দর্শক-সমর্থকরাও মুখিয়ে থাকেন এই লড়াই দেখতে। আলোচনাও চলে ক্রিকেট বিশ্বে। তবে মাঠের খেলায় সেই দ্বৈরথ ঠিক কতটা দেখা যায়? খুব একটা না। এই গতকালই মাঠের বাইরের ঘটনায় তুমুল আলোচিত ম্যাচে একপেশে জয় তুলে নিয়েছে ভারত।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোতে ৬১ রানের জয় পেয়েছে ভারত। ম্যাচ শেষে দলের জয়ের পরিকল্পনার কথা জানালেন স্পিনার অক্ষর প্যাটেল।

অক্ষর বলেন, ‘ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের বোলিং বা এই জাতীয় যাই হোক না কেন— আমরা সেসব নিয়ে ভাবছিলাম না। আমরা শুধু আমাদের পরিকল্পনা এবং ব্যাটিং বা বোলিং করার সময় তার বাস্তবায়ন নিয়ে ভাবছিলাম। আমরা শুধু ভাবছিলাম যে আমরা যদি আগে বোলিং করি বা পরে বোলিং করি, তবে আমাদের কী করতে হবে? উইকেট কেমন ছিল? অর্থাৎ, আমরা আমাদের খেলা নিয়েই ভাবছিলাম।’

দুই দেশের রাজনৈতিক কারণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখন অন্যন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। মাঠের খেলা ছাপিয়ে এটি হয়ে উঠেছে দুই দেশের সম্মানের লড়াই। তবে ভারতের ক্রিকেটাররা এসব চিন্তা না করে এটাকে অন্য সাধারণত কোনো ম্যাচের মতোই দেখেন। মাঠের খেলায়ও এটাই চিন্তা করেন।

ভারতীয় স্পিনার অক্ষর বলেন, ‘আমরা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা এই জাতীয় কিছু নিয়ে ভাবছি না। আমরা একটি দলের বিপক্ষে খেলছি এবং আমরা কেবল ক্রিকেটের ওপর মনোযোগ দিচ্ছি। তাই যখনই আমি খেলি, আমি অন্যদের নিয়ে ভাবি না। আমি এটাকে একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ‘ওয়ান-অন-ওয়ান’ ম্যাচ হিসেবে দেখি। তাই আমি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না।

বাকিদের ব্যর্থতায় এ ম্যাচে পাকিস্তানের আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছিলেন উসমান খান। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন তিনি। তাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানি সমর্থকদের আশার প্রদীপ নিভিয়ে দেন অক্ষর প্যাটেল। আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজমকেও ফেরান তিনিই।

উসমানকে আউট করার পরিকল্পনা নিয়ে অক্ষর বলেন, ‘মাঝে মাঝে বলগুলো স্কিড করছিল এবং ডেলিভারিগুলো বেশি স্পিন করছিল। আমি যখন নতুন বলে বোলিং করছিলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে নতুন বলটি একটু বেশি স্কিড করছে। ব্যাটার কী করতে চায় এবং সে কোন এরিয়া লক্ষ্য করতে চায় তার ওপর ভিত্তি করে আমার পরিকল্পনা ছিল। এরপর আমি আমার লাইন বা লেন্থ পরিবর্তন করি। আর দ্বিতীয় আউটের বিষয়টি ছিল এমন যে, সে (উসমান) ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসছিল। তাই আমি আবারও আমার লেন্থ অনুযায়ী বল করি।