নীলফামারীর সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইরিগেশন সেচনালা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসএইটডি (ঝ৮উ) ক্যানেলের টি ওয়ান (ঞ১) সেচনালা নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

জানা যায়, ১২ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেচনালাটি তৈরিতে সরকারের ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি টাকা। মেসার্স মিজানুর আলম এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই কাজটি করছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, নির্মাণ কাজ করার সময় বাস্তবায়ন কারি প্রতিষ্ঠানের উপ-সহকারি প্রকৌশলী বা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু সেখানেউপস্থিত থাকছে অনভিজ্ঞ এক কার্য সহকারি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত লোকজন মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুর বিভাগের অধীন পার্বতীপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশল দপ্তর কাজটির দেখাশুনার দায়িত্বে আছেন।

কাজের সিডিউল মতে, সেচ ক্যানেলের সিসি প্লাস্টার হতে হবে কমপক্ষে ১২ মিমি। কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছে না। একইভাবে লাইনিং ও বেড ঢালাই ৭৫ মিমি’র জায়গায় ৬০ থেকে ৬২ মিমি করা হচ্ছে। সিমেন্ট, বালু ও পাথর মিশ্রণের অনুপাতেও তারতম্য থাকার অভিযোগ মিলেছে। বিশেষ করে ফ্রেস লোকাল বালু ব্যবহার করার কথা থাকলেও ধুলা মিশ্রিত নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের।

ব্যবহৃত সিংগেল পাথরের সিকিভাগই মরা। আবার মিকচার মেশিনে অধোয়া পাথর দেয়া হয়েছে ও হচ্ছে। এতে করে পাথর ও বালুতে ধুলার মিশ্রণ থাকায় ঢালাইয়ের স্থায়িত্ব কম হওয়ার আশংকা রয়েছে শতভাগ। এর ফলে জনগণের কষ্টে উপার্জিত অর্থ ভেস্তে যাবে বলে সেচনালা নির্মাণ এলাকার একাধিক মানুষ মতামত ব্যক্ত করেছেন।

কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এসও) আসলাম বাবর জানান, সিডিউল মোতাবেকই কাজ হচ্ছে। কাজের তদারকির ব্যাপারে কার্য সহকারি থাকলেই চলবে। অন্য কোন কর্মকর্তারা সেখানে না থাকলেও চলবে।

কথা হয় কাজ বাস্তবায়নকারী দপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) জিএম রাইসুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী ল্যাবরেটরি টেস্টে উন্নীত হওয়ার পর ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজে কোন দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়নি এবং হচ্ছে না বলে জানান তিনি।