এবার ভোলার ধনিয়ায় মিলল গ্যাসের সন্ধান। সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জেবল হক মাঝির বাড়িতে পাওয়া গেছে এই গ্যাসের সন্ধান।

রোববার দুপুরে তার বাড়িতে একটি শ্যালো টিউবওয়েল স্থাপনের পর থেকেই ওই কল থেকে প্রতিনিয়ত গ্যাস বের হচ্ছে। এমন খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ এমন দৃশ্য দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জেবল হক মাঝের বাড়িতে রবিবার দুপুরে এটি শ্যালো টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়। ৭০ ফুট পাইপ বসিয়ে পানি উত্তোলনের চেষ্টা করে। কিন্তু পানি না উঠে পাইপের ভেতর থেকে গ্যাসের মতো শব্দ বের হতে থাকে। পরে কল চাপলে গ্যাস বের হতে দেখা যায় এবং গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন জ্বালালে তা জ্বলে ওঠে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পানির সঙ্গে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। টিউবলে স্থাপনের কাজে নিয়োজিত লোকেরা বুঝতে পারেন যেখানে কলটি স্থাপন করা হয়েছে তার নিচে গ্যাসের অবস্থান রয়েছে।

তাদের অনুমানের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ওই কলটির মুখে গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন ধরানো হয়। এরপর থেকে এই কল থেকে থেমে থেমে গ্যাসের অবস্থান জানান দিচ্ছে। যখনই কলটির মুখে আগুন ধরানো হচ্ছে তখনই আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন শ্যালো টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে যাওয়া হয়েছে, এই অল্প গভীরতায় গ্যাসের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। আর যদি এই স্থানে ডিপটিউবওয়েলের জন্য ৮০০ থেকে ১০০০ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপন করা হতো তাহলে পুরোপুরি গ্যাসের অবস্থান লক্ষ্য করা যেত।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল গোলদার জানান, জেবল হক মাঝির বাড়িতে রোববার দুপুরে একটি শ্যালো টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। তারপর থেকেই ওই কল থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। এই অল্প গভীরতায় এই গ্যাসের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, তাহলে যদি ৮০০ থেকে ১০০০ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপন করা হতো তাহলে পুরোপুরি গ্যাসের অবস্থান সঠিকভাবে বুঝা যেত। আমরা ধারণা করছি এই স্থানে গ্যাসের অবস্থান রয়েছে।

বাড়ির মালিক জেবল হক মাঝি বলেন, পরিবারের ব্যবহারের জন্য বাড়ির উঠানে শ্যালো নলকূপ বসাই। কিন্তু পানি না উঠে গ্যাস বের হতে থাকে। কল চাপলে গ্যাস বের হয়, আর আগুন ধরালে জ্বলে ওঠে।

তার ছেলে মুছা জানান, শ্রমিকরা যখন পাইপ বসাচ্ছিল তখনই অস্বাভাবিক শব্দ পাই। পরে পরীক্ষা করে দেখি কল চাপলে গ্যাস বের হচ্ছে। গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন দিলে জ্বলে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী সাহেব আলী বলেন, খবর পেয়ে গিয়ে দেখি কল চাপলে গ্যাস বের হচ্ছে। লাইট দিয়ে আগুন দিলে জ্বলে ওঠে। এমন দৃশ্য এই এলাকায় আগে দেখিনি।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, শুরুতে মনে হয়েছিল পাইপে সমস্যা হয়েছে। পরে বুঝি গ্যাস বের হচ্ছে। আগুন দিলে তা জ্বলে ওঠে দেখে সবাই বিস্মিত হয়।

এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে মেঘনা পাড়ের শত শত বাসিন্দারা ভিড় করে তা দেখতে আসে। স্থানীয়দের ধারণা, জেলার অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও গ্যাসের সম্ভাবনা থাকতে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম গোলদার বলেন, জেবল হক মাঝের বাড়িতে একটি শ্যালো নলকূপ বসানো হয়েছে। ওই নলকূপ স্থাপনের পর থেকেই গ্যাস নির্গত হচ্ছে। গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন জ্বালালে আগুন জ্বলছে। এ খবর চারদিক ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ তা দেখতে ভিড় জমাচ্ছে। আমরা ধারণা করছি এখানে গ্যাসের অবস্থান রয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধান কাজে নিয়োজিত সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি ও বাপেক্সসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

উল্লেখ্য, শাহাবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র-এর ৯টি কূপের মধ্যে ৩টি ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও ভেদুরিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত, যা জেলার উত্তর ও পশ্চিম অংশে। তবে ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রাম জেলার পূর্বপাশে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। এ এলাকায় এর আগে এমনভাবে গ্যাস নির্গমনের ঘটনা শোনা যায়নি।