রাজশাহীর তানোরে অস্থায়ী বাসিন্দা আ”লীগ পরিবারের সদস্য গভীর নলকূপের অপারেটর রফিকুল ইসলাম কে পরিবর্তনের জোর দাবি তুলেছেন স্কীম ভুক্ত কৃষকরা। নীতিমালা লঙ্ঘন ও অনৈতিক সুবিধা এবং তথ্য গোপন করে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পায় বলাৎকার রফিক।

তাকে পরিবর্তনের জন্য উপজেলা বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী বরাবর ২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার লিখিত অবেদন করেন সাবেক পৌর কৃষক দলের আহবায়ক আনারুল ইসলামের স্ত্রী হিরা পপি। পৌর এলাকার ধানতৈড় মৌজায় ঘটে রয়েছে এমন ঘটনা।

রফিককে অপারেটর পরিবর্তন না করলে স্কীম ভুক্ত কৃষকদের মাঝে হট্টগোল সহ মারপিট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে বলে মনে করছেন আবেদন কারী। এদিকে গভীর নলকূপের অপারেটরদের নবায়ন চলছে। নবায়নে বিএমডিএর অফিসের মনিরুল নামের এক কর্মকর্তা রফিকের পক্ষে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে স্বাক্ষর করে নবায়ন করতে গিয়ে ধরা খেয়ে ফেসবুকে তার ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

হিরা পপি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তানোর পৌর সদর ধানতৈড় মৌজার অন্তর্গত ১৬১৯ দাগে গভীর নলকূপ রয়েছে। ওই নলকূপের অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পান ধানতৈড় গ্রামের অস্থায়ী বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর যাবত রাজশাহী শহরে বসবাস করেন। রফিক বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় নানামুখী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছিলেন।

তার ছোট ভাই তরিকুল ইসলাম পৌর আ”লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও বড় ভাই রুস্তম আলী ৩ ওয়ার্ড আ”লীগের সভাপতি ছিলেন। পুরো পরিবার আ”লীগ পন্থী। কিন্তু যাবতীয় তথ্য গোপন ও কালো টাকার বিনিময়ে বিগত ৩০/১২/২০২৪ সালে অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পান রফিক।

এছাড়াও রফিক ৬ বছরের শিশুকে বলাৎকার করার পর থেকে গ্রামে বসবাস করেননা। সে অপারেটর নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে কোনদিন গভীর নলকূপে আসেননা। শ্রমিক দিয়ে গভীর নলকূপ পরিচালনা করে আসছে। হার ধরা হয় অতিরিক্ত।

এসব নিয়ে কৃষকদের মাঝে রয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং একারনে গত জাতীয় ভোটে ধানের শীষে ভোট দেননি অনেকে। যার কারনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পরাজিত হয় ধানের শীষের প্রার্থী। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বহিরাগত অপারেটর পরিবর্তন করে স্কীমভূক্ত কৃষকদের মাঝ থেকে হিরা পপিকে দেয়ার জোর দাবি উঠেছে।

হিরা পপি ও তার স্বামী আনারুল জানান, নিয়োগের আগে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল। নীতিমালায় বলা হয়েছিল, অপারেটর নিয়োগ পেতে হলে স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং গভীর নলকূপ নিজেকে পরিচালনা করতে হবে। কিন্তু রফিক নীতিমালার কোন ধরনের তোয়াক্কা না করে শ্রমিক দিয়ে গভীর নলকূপ পরিচালনা করে আসছে যা চরম ভাবে নীতিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

আবার নবায়নের জন্য তার অনুপস্থিততে অফিসের দূর্নীতিবাজ কর্তারা জালিয়াতি ভাবে স্বাক্ষর করে নবায়ন করে দিচ্ছে। সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে অপারেটর পরিবর্তন না হলে স্কিম ভূক্ত কৃষকদের মাঝে বিশাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং এর দায় নিতে হবে বিএমডিএকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক মেকানিক্স জানান, আনারুল কোনভাবেই গভীর নলকূপ পাবে না। কারন গভীর নলকূপের নিয়োগ নতুন ভাবে হবেনা।

এখন নবায়ন চলছে। কখনো নতুন ভাবে নিয়োগ হলে যদি তার অনুকূলে আসে। তাছাড়া দৌড়ঝাপ করা বৃথা হবে আনারুলের। বিএনপির বড় নেতা তাহলে নিয়োগ নিতে পারলনা কেন। আর এখন এসে নবায়নের সময় কার স্বাক্ষর কে দিচ্ছে এসব নিয়ে তার মাথা ব্যথা।

বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত) জামিনুর রহমান জানান, আবেদন করেছে তদন্ত করে দেখা হবে,যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নবায়নের ক্ষেত্রে যিনি অপারেটর তার স্বাক্ষর অন্য কেউ করতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা তেমন কোন সমস্যা না।

অনুপস্থিত এজন্য অন্য কেউ স্বাক্ষর করতেই পারেন। এক বছরের জন্য গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অপারেটর নিয়োগ হয়েছিল, বছর পার হয়েছে নিয়োগ না হয়ে নবায়ন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, নআায়নটাই এক প্রকার নিয়োগ। নতুন ভাবে তথ্য উপাত্ত নিয়ে নবায়ন করা হচ্ছে।