বগুড়ার নন্দীগ্রামে নেতৃত্বের বিরোধ ও এক তরুণীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল (২৫)।

তিনি বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন ও তার সঙ্গে থাকা ১০ থেকে ১৫ জন সহযোগী এই হামলায় অংশ নেন। রবিবার (১ মার্চ) রাতে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার এ ঘটনা ঘটে।

আহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইফতারের আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি শাকিল। পরে ইফতারের পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। মারধরের একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল পৌর শহরের মাঝগ্রাম মহল্লার শফিকুল ইসলামের ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন একই এলাকার আব্দুর রউফ স্ট্যালিনের ছেলে।

স্থানীয় নেতারা জানান, শাকিল ও পলিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এছাড়া এক তরুণীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কারো শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত বের হোক, তা আমরা চাই না। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আহত শাকিলে মা মহিলাদল নেত্রী ফিরোজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে হামলাকারী পলিন’সহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, হামলাকারিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার অভিযান চলছে। অভিযোগর ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।