বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন। বাবা-মায়ের মতোই তাঁর হাত যেন যাদুর কাঠি—যেখানেই স্পর্শ করছেন, সেখানেই জনগণ আশা জাগানিয়া ফল পাচ্ছে।

তিনি আজ সন্ধ্যায় ধোবাউড়া সদরে বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ধোবাউড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিএনপি ও অঙ্গ , সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছিলেন । এর আগে একই স্থানে উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরবর্তী কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

ইফতার মাহফিলে প্রিন্স বলেন, তারেক রহমান উদ্ভাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে যারা একসময় ভুয়া বলেছিলেন, তারাও আজ তারেক রহমানকে যোগ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। পরিবর্তনের অঙ্গীকার ও দেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে মাকে চিরবিদায় দিতে হলেও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তিনি প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও সরকার গঠনের পর পরই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনে কৃষক কার্ড চালু, দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ভাতা চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর মতো যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন তারেক রহমান ।

প্রিন্স বলেন, গারো পাহাড়ের পাদদেশে একটি উন্নত, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হতে পারে, কিন্তু জনগণের উন্নয়নের স্বপ্ন থেমে থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলা-এ দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটানো হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও সীমান্ত এলাকার বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে এ অঞ্চলকে একটি আলোকিত ও সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি জনগণ ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের শক্তিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাটের মানুষ পরিবর্তন চায়, উন্নয়ন চায় আমরাই সেই পরিবর্তনের বাহক।

তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন , বর্তমানে দল নিরপেক্ষ সরকার নয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আছে । তাই বিএনপিকে অবজ্ঞা বা অবহেলা নয় , বিএনপিকে সাথে নিয়েই তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের কর্মকান্ড ধোবাউড়ায় পরিচালনা করতে হবে ।

কর্মী সভায় এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন , বিগত নির্বাচনে জনগণের ভোটে ময়মনসিংহ–১ আসনে ধানের শীষ পরাজিত হয়নি; কোটি কোটি টাকা, মিথ্যাচার ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিগত নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ আসনে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে মোকাবেলা করতে দলের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া গেছে – একথা উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, সে অনুযায়ী দলের পক্ষ থেকেই উচ্চ আদালতে মামলা করা হয়েছে । উচ্চ আদালত আজ ময়মনমসিংহ -১ আসনের নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ সকল নথি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে আনার নির্দেশনা দিয়েছে । এর মাধ্যমে আইনী লড়াই শুরু হলো । তিনি বলেন , তিনি বলেন , সত্য কখনো চাপা থাকে না। সত্যের উত্থান অবধারিত।

তিনি স্বতন্ত্র এমপির উস্কানীমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন , তার এধরনের বক্তব্যের কারণেই আওয়ামী গোষ্ঠী বেপরোয়া হয়ে উঠছে । তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি পতিত ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর বিশৃঙ্খতা সৃষ্টির অপ তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করার আহবান জানান । তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি মনোবল না হারিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের পাশে থাকার আহবানও জানান ।

ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে ধোবাউড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলমীর আমীর মওলানা আবদুল হালিম, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক আযহারুল ইসলাম কাজল , সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির, ধোবাউড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম , উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যন জাকিরুল ইসলাম টোটন, হুমায়ূন কবীর সহ ধোবাউড়ার রাজনৈতিক ও শ্রেণী পেশার সংগঠণের নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন ।