নওগাঁর মান্দায় চোর সন্দেহে রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কওমী মাদরাসায় কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া কওমী মাদরাসা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি কে এম মাসুদ রানা মুঠোফোনে জানান, পরিবারের লোকজন দাফন শেষে থানায় এসে মামলা করবেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। রাত সোয়া ৯ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যস্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে এ ঘটনায় তদন্তসহ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কওমি মাদরাসা এলাকায় রফিকুল ইসলামকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে চোর সন্দেহে আটক করেন মাদরাসার কিছু শিক্ষক।

অভিযোগ উঠেছে,আটকের পর তাকে মাদরাসার মাঠের একটি আম গাছের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এভাবে দীর্ঘক্ষণ নির্যাতনের ফলে ঘটনাস্থলেই রফিকুল ইসলামের প্রাণ প্রদীপ নিভে যায়। সকালে হত্যাকাণ্ডের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় ও মাদরাসার শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করার অপচেষ্টা করা হয়।

মাদরাসার ক্বারী শিক্ষক সাব্বির হোসেন বলেন, রাত সোয়া দুইটার দিকে ছাত্র পারভেজকে নিয়ে রমাদানের সাহারি রান্নার জন্য রান্নার ঘরের দিকে যাই। এ সময় রান্না ঘর থেকে অচেনা এক যুবক বের হয়ে আসছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করাকালে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন।

শিক্ষক সাব্বির হোসেন আরও বলেন, এ সময় ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করে গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। হইচই শুনে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম, শিক্ষক তুহিন হোসেন, শিক্ষক ওমর ফারুক ও শিক্ষক মোর্শেদ আলম এসে এলোপাথাড়ি মারপিট করেন। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলাম জ্ঞান হারিয়ে সেখানেই মারা যান।

মাদরাসার পাশের বাসিন্দা ভ্যানচালক আসলাম হোসেন বলেন, ‘মাদরাসার ভেতরের মসজিদে আমি ফজরের নামাজ আদায় করেছি। অথচ ভেতরে একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।

মাদরাসার মহাতামিম মাসুদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আমি মাদরাসায় গিয়ে এক যুবককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। এর কিছু পরেই তিনি মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,কেউ অপরাধ করলে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মব সৃষ্টি করে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত বাঁধা অবস্থা লাশ উদ্ধার করি। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশটির ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়, ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যায় লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ।” বর্তমানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।