রাজশাহীর তানোর পৌর সদর গোল্লাপাড়া হাটের কোটি টাকা মূল্যের জায়গায় কোন ধরনের প্ন্যান ছাড়াই দালান বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় গত ফেব্রুয়ারী মাসের ১৫ তারিখে গোল্লাপাড়া বাজারের বাসিন্দা আব্দুল বারী লিটন বাদি হয়ে পাকা বাড়ি নির্মাণ কারী আব্দুর রবকে বিবাদী করে উপজেলা নির্বাহীর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।

কিন্তু ফেব্রুয়ারী মাস অতিবাহিত হলেও রহস্য জনক কারনে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এতে করে একের পর এক হাটের জায়গা দখল হলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয়। ফলে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে শুধু পাকা বাড়ি না অবৈধ যত স্থাপনা আছে সব কিছু ভেঙে অবমুক্ত করার দাবি তুলেছেন হাট সংশ্লিষ্ট জনসাধারণ।

অভিযোগে উল্লেখ, তানোর পৌর সদর গোল্লাপাড়া হাটের জায়গায় দীর্ঘ দিন ধরে লেদের ব্যবসা ও বসবাস করে আসছেন আব্দুর রব। এঅবস্থায় বেশ কিছু দিন আগ থেকে হাটের জায়গার উপরে পৌরসভা থেকে কোন ধরনের নকশা বা প্ন্যান ছাড়াই ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

কাজ শুরুর সময় বিশাল আকারের কড়ই গাছের ডাল কাটার কারনে বাদী লিটনের ঘরের টিনসহ আসবাবপত্রের ক্ষতি হয়। যার ক্ষতির পরিমাণ দেয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।

বাদী লিটন জানান, হাটের প্রায় ৮/১০ শতাংশ জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ সহ বাড়ি নির্মাণ করা ছিল। একটি দোকানও প্রায় ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে। তার লেদের দোকান সংলগ্ন কোটি টাকা মূল্যের হাটের জায়গায় চার তলা বিশিষ্ট ফ্ল্যাট বা পাকা দালান বাড়ি নির্মাণ করছেন। যা সরেজমিনে তদন্ত করলেই ধরা পড়বে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোল্লাপাড়া বাজার হয়ে খাদ্য গুদামে যাওয়ার পথে হাস মুরগী হাটের উত্তর দিকে রবের লেদের দোকান। দোকান ঘেষে উত্তরে নির্মাণ করা হচ্ছে ফ্ল্যাট বাড়ি। চার তলা বিশিষ্ট বাড়ির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। লেদের দোকানের পূর্ব দিকে রয়েছে বেশকিছু দোকান, যা দখলদারেরা দখল করেছে।

বাড়ি নির্মাণের জায়গায় রয়েছে বিশাল আকারের শতবর্ষী কড়ই গাছ। গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। গোদামে যাওয়ার রাস্তার দক্ষিণে বাজারের পাবলিক টয়লেট। টয়লেট ঘেষে বিএনপির পার্টি অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। গত জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর আ”লীগ সরকারের পতন হওয়ার পরই কোটি টাকা মূল্যের জায়গায় করা হয়েছে পার্টি অফিস।

পার্টি অফিসের পরে রয়েছে টিনের ঘর। সেটাও জবর দখল করা হয়েছে। তারপরে রয়েছে সাবেক কাউন্সিলর আ”লীগ নেতা রাসেল সরকার উত্তমের দোকান ঘর। তিনি কাউন্সিলর থাকা কালীন ও দলীয় প্রভাব বিস্তার করে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করেন। যা এখন কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।

বনিক সমিতির অফিসের সামনে গাড়ী রাখা গ্যারেজের নামে সমিতির নেতারা ঘর করে অন্যত্র বিক্রি করেছে। তার পূর্ব দিকে জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রশিদ প্রভাব খাটিয়ে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করে বিক্রি করেছে।

হাটের ভিতরের প্লাটফর্ম পুরোটা দখল করে বনিক সমিতি ও ইজারাদার এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা লাখলাখ টাকার বিনিময়ে কেনা বেচা করেছেন। এভাবেই হাটের জায়গা নিয়ে জমজমাট বানিজ্য করেই চলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাড়ি নির্মাণ কারী লেদ ব্যবসায়ী আব্দুর রব জানান, চার শতাংশ জায়গার মধ্যে এক শতাংশ কিনা। বাকি তিন শতাংশ জায়গা জমিদারের। হাটের জায়গা না।

জমিদারের জায়গায় কিভাবে বাড়ি করছেন বা লীজ নেয়া আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, লীজের জন্য আবেদন করা আছে, এখনো লীজ পায়নি। দীর্ঘ দিন ধরে এজায়গায় বসবাস করছি। একারনে বাড়ী নির্মাণ করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাঈমা খান কে বিষয় টি সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি জানান দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কতা বললেও এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।