কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভেঙ্গে পড়া সেতুর উপর বাঁশ ও কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার। উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের কাগজী পাড়ায় গিদারী নদির উপর নির্মিত সেতুটি তিন বছর আগে ভেঙ্গে যায়।

ভেঙ্গে পড়া সেতুর অর্ধেক অংশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মাচা তৈরি করে যাতায়াত করছে এলাকার মানুষজন ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ৩ বছরেও সেতুটি নির্মানে কোন উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। উলিপুর-কুড়িগ্রাম গামী সড়কের মিনাবাজার এলাকার ঢেঁকিয়ারাম হতে পান্ডুল ইউনিয়ন গামী গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির গিদারী নদির উপর কাগজী পাড়ায় অবস্থান সেতুটির।

কালের বিবর্তনে সেই নদী মরে গেলে বর্তমানে তা খালে রুপান্তরিত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেই খাল পূণঃ খনন করে প্রশস্ত করায় বর্ষার সময় পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙ্গে যায়।
সেতুটি ভেঙে পড়ার পরই সেতুর অর্ধেক অংশের উপর বাস ও কাঠ দিয়ে তাৎক্ষণিক যাতায়াতের ব্যবস্থা করে এলাকাবাসি।

কারণ এ পথে ঢেঁকিয়ারামসহ অনেক এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কাগজী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তনুরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তনুরাম দাখিল মাদ্রাসায় নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে।

ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও দীর্ঘ ৩ বছর অতিবাহিত হলেও প্রশাসন সেতু নির্মানে কোন সু-দৃষ্টি দেয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম জানান, সেতুটিতে যেকোন সময় প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

শুকনো মৌসুমে খালে পানি না থাকায় সেতুর নীচ দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ওই ভেঙ্গে পড়া সেতুর উপর নির্মিত কাঠের সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

স্থানীয় কাইযুম, দুলালসহ অনেকেই জানান, এ সেতু হয়ে আমভক্ত পাড়া, কবিরাজ পাড়া, ছোট কাগজী পাড়া, তনুরামসহ পান্ডুল ইউনিয়নের শত শত মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করে। এলাকাবাসির অভিযোগ, এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেই হয়তো প্রশাসনের নজর কারবে। কাগজীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম ও তনুরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক

জানিয়েছেন, ওই সেতু পার হয়েই তাদের বিদ্যালয়ে অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। সেতুটি পুনঃ নির্মাণ করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার ফিজানুর রহমান জানান, ভেঙে পড়া সেতুটি আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে করা হয়নি, তা ছাড়া ওখানে যত বড় সেতু প্রয়োজন ওই মাপের সেতু আমরা করি না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী প্রদিপ কুমার সাহা জানিয়েছেন, সেতুটির সয়েল টেষ্ট ও টপো সার্ভে করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান জানান, সেতুটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।