লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও নার্স রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে বিন্ত জবেইল জেলার বুর্জ কালাউইয়াহ গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা সবাই হামলার সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন। খবর আল জাজিরার।

এদিকে উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাস্থ্যখাতে এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলের সোয়ানেহ গ্রামে একটি প্যারামেডিক সেন্টারে হামলায় দুইজন প্যারামেডিক নিহত এবং পাঁচজন আহত হন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ করেছে।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের তামির হারেত সাইদা এলাকায় আরেকটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।

লেবাননের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরপর ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১৮ জন প্যারামেডিক রয়েছেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের ইয়ারা শহরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের কফর কিলা ও খিয়াম এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলাও চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম শুক্রবার বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষের জন্য সংগঠনটি প্রস্তুত রয়েছে। কাসেম বলেন, এটি একটি অস্তিত্বের লড়াই, এটি কোনো সীমিত বা সহজ যুদ্ধ নয়।

এদিকে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের আপার গ্যালিলি এলাকায় কয়েকটি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির চ্যানেল ১২।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে, আবার কিছু খোলা জায়গায় বিস্ফোরিত হয়েছে। হামলার ফলে কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।