রাজশাহীর তানোরে ঈদের দিনে বিএনপি নেতার ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের নাম বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্ক। হামলায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ভেরিফাই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাজশাহী জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। তার বাড়ি তানোর পৌর এলাকার গুবিরপাড়া মহল্লায়।
এঘটনার পর থেকে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন জনসাধারণ। আর ঈদের দিনে এমন নেক্কার জনক হামলা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ।
গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ১০টার দিকে তানোর কুঠিপাড়াস্থ বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক ভবনে এ হামলা করা হয়। ঘটনার পর থেকে তানোর, নাচোল, মান্দা, গোদাগাড়ী ও মোহনপুরে ডিস লাইন বন্ধ রয়েছে।
অভিযুক্ত হামলাকারীর নাম হাসান আলী (৩০)। সে খাদেমুল ইসলাম ছেলে। তার বাড়ি কুঠিপাড়া মহল্লায়। হাসান জালাল হাজীর ভাতিজা। জালাল জামায়াতের স্থানীয় নেতা। হাসান পেশায় ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী। কিন্তু কোন এক কারণে হাসান বর্তমানে ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা।
তবে সে যদি ভারসাম্যহীন হয় তাহলে কিভাবে মুল গেটের তালা ভেঙেছে, কিভাবে বিদ্যুৎ লাইনের তার কাটল, কিভাবে সব ভাংচুর করল, আবার কিভাবে ছাদে উঠলো এমন নানা প্রশ্ন বিরাজ করছে জনসাধারণের মাঝে।
আবার হাসান আটক হওয়ার পর সে জালালের নাম বলে। আবার জালাল নাকি হাসানকে মদ খেতে টাকা দিয়ে ভাংচুর করতে উৎসাহ দেন বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন।
পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারপিট করে পুলিশে দিয়েছেন। পুলিশ তার চিকিৎসার জন্য তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে হাসান হাসপাতালে পুলিশের নজরদারীতে রয়েছে বলে তানোর থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে, হামলা ভাংচুরের পর দিন রবিবার দুপুরে এরির্পোট লিখা পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। একারণে কোন মামলা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান তানোরে বিএনপির রাজনীতিতে একজনপ্রিয় নেতা। তাকে রাজনৈতিক ভাবে ঘায়েল করতে প্রতিপক্ষ নানা ভাবে কাজ করছেন। কিন্তু কোন কিছু করে তাকে দমানো যায় না। একারনে কোন উগ্রবাদী গোষ্ঠীরা হাসানকে দিয়ে এধরণের কাজ করতে উৎসাহ জুগিয়েছে।
অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি করে মিজানকে রাজনৈতিক ভাবে দমানোর নীল নকশাও হতে পারে। তবে তদন্তে সব বেরিয়ে হাসবে বলে ধারনা করা করছেন জনসাধারণ। আবার হাসান হাসুয়া, প্লাস, কাটার, হাতুড়ি সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব ভাংচুর করেছে। এটা দীর্ঘ দিনের পরিকল্পিত হামলা। আর ঈদের দিনকে বেছে নেয়া হয়েছে। যাতে করে নির্বিঘ্নে হামলা চালিয়ে সব বিকল করতে পারে।
এনিয়ে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান বলেছেন, ঈদের ছুটির কারণে অফিস বন্ধ ছিল। প্রধান গেটের তালা ভেঙে সন্ত্রাসি হাসান ভিতরে প্রবেশ করে কন্ট্রোল রুমসহ পুরো অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় কোটি টাকার মেশিন ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। পুরো অফিস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের সবকিছু ভাঙচুর করার কারণে বর্তমানে ডিস/ক্যাবল লাইন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হামলা। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসি ও ইন্ধনদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার প্রতিষ্ঠান হামলা করেছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি করছি বলে জানান তিনি।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেছেন, ঈদের দিনে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত একজনের নাম জানা গেছে। আটককৃত হাসানের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দেয়া হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এব্যাপারে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত কিনা জানতে চাইলে ওসি জানান তদন্তের স্বার্থে এখনো কার নাম প্রকাশ করা যাবেনা।