নাসির খানের রচনা ও মীর আরমান হোসেনের পরিচালনায় ঈদের ২য় দিনে একক নাটক ” উইশলিস্ট” অভিনয়েঃ খায়রুল বাসার এবং আইশা খান প্রমুখ। নাটকটি প্রচারিত হবে রাত সাড়ে ৭ টায়।
সংক্ষেপে গল্পঃ থাইল্যান্ডের জামিতিয়েন শহরে এক বিকেলের ফুটপাথে একা দাঁড়িয়ে থাকে ইর। অচেনা শহর, অচেনা জীবন-ভেতরে জমে থাকা বিষণ্ণতা তাকে ক্রমশ নিঃসঙ্গ করে তুলেছে। ঠিক তখনই তার সঙ্গে পরিচয় হয় সাজিদের। ভবঘুরে, রসিক, জীবনকে হালকাভাবে নেওয়া এক তরুণ-যে নিজেকে বলে সোল ট্রাভেলার।
একটি স্যান্ডেল থেকে শুরু হওয়া ছোট্ট সহানুভূতি ধীরে ধীরে রূপ নেয় গভীর বন্ধুত্বে। দু’জনে একসাথে হাঁটে, কফি খায়, সমুদ্র দেখে, কবিতা শোনে, আকাশের তারা গুনে। সাজিদের সহজ জীবনদর্শন আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ইরার ভেতরের জমে থাকা ব্যথাকে আস্তে আস্তে আলোকিত করে। কিন্তু ইরা এক ভয়ংকর সত্য লুকিয়ে রাখে-সে গুরুতর অসুস্থ্য তার জীবন একটি অসমাপ্ত গল্প, যার শেষ সে আগেই জেনে গেছো তাই ভালোবাসা সত্ত্বেও সে বারবার সাজিদকে দূরে রাখতে চায়। তার বিশ্বাস, ভালোবাসা মানেই মায়া-আর সেই মায়া কাউকে কষ্ট দেওয়ার অধিকার তার নেই।
অন্যদিকে সাজিদ জানে সবা ইরার হারানো ডায়েরি থেকেই সে জেনে যায় তার অসুখ, তার ভয়, তার ছোট ছোট উইশলিস্ট। তবু সে থামে না। ইরার প্রতিটি ইচ্ছা নিঃশব্দে পূরণ করে-ফুল, কাজল, তাঁবুতে রাত কাটানো, তারাভরা আকাশ, নিঃশর্ত সঙ্গ।
ইরা ভাবে এগুলো করুণা। সাজিদ বলে- “ভালোবাসাকে করুণা বললে ভালোবাসা অপমানিত হয়। ইর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য চলে যেতে চায়। সাজিদ তার সঙ্গেই যেতে চায়- ভবিষ্যৎ না ভেবে, কেবল বর্তমানকে আঁকড়ে ধরে। কিন্তু ইরা চায়, এই ভালোবাসা এখানেই থেমে যাক-সুন্দর স্মৃতি হয়ে। শেষ মুহূর্তে, সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে, ইর জানতে পারে-সাজিদের একমাত্র উইশ কী।
“মানুষের কত কত ইচ্ছা থাকে। আমার শুধু একটাই-বাকি জীবনটা তোমার সাথে থাক। ইরা চোখের জলে ভিজে তাকিয়ে থাকে সাজিদের চলে যাওয়ার দিকে। সে ডাকে কি না, গল্প এখানেই থেমে যায়।