জুয়েল এলিনের রচনা ও জাকিউল ইসলাম রিপনের পরিচালনায় ঈদের ৩য় দিনে একক নাটক ” উইশলিস্ট” অভিনয়েঃ মারজুক রাসেল, চাষী আলম, তানজিম হাসান অনিক, মুনমুন আহমেদ মুন প্রমুখ। নাটকটি প্রচারিত হবে রাত সাড়ে ১১ টায়।
সংক্ষেপে গল্পঃ চোখের সামনে তিন মনি লোকটাকে আছাড় মারতে দেখেই পাত্র হিসাবে তাকেই বাছ বিচার করলো বুলবুলি বেগম। বোমা বাবু যখন বুলবুলিকে কবুল বলে বিয়ে করে শশুর বাড়ির নৌকা ঘাটে এসে নামলো পরিবেশ দেখে বেশী একটা জুত লাগলো না তার কাছে।
সামনে ব্যান্ডপার্টি দাঁড়িয়ে কোথায় বিয়ের বাদ্য বাজবে কুমার সানুর গান, “সানাই টা আজ বলছে কি?” অথচ সেইখানে বাজছে ডিপজল এর গান, “পুত কইরা দিমু তোরে পুত” না না জুত লাগলো না তার কাছে।
এদিকে জামাই নিয়ে বুলবুলিকে গ্রাম্য পথ দিয়ে আসতে দেখে ভূত দেখার মত চমকে উঠে ভ্যান্ডারের ছেলে আন্ডা রফিক। অবশ্য এই আন্ডা টাইটেলটা তার কপালে জুটেছে এই বুলবুলিকেই ভালোবাসার কারনে। ডিপজলের গান বাজার কারন। রাতেই জলের মত পরিষ্কার হয়ে যায় বাবুলের কাছে।
রাজ্য সহ রাজকন্যা জয়ের স্বপ্ন দেখা বাবুল যখন হিসেব করছে শশুর বাড়ির কত শতাংশ জমি তখনই তাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যটা জেনে তার শরীরের সর্বাংশে যেন ভয়ের একটা হিমশিতল ধারা ভয়ে যায়। এই অঞ্চলে বৈশাখে একটা খেলা হয়। যার নাম বলি খেলা। মহা ধুমধাম এ হয় তার আয়োজন।
১০ বারের চ্যাম্পিয়ন বাঘা খালেক তার সাথেই কুস্তি লড়েই বুলবুলির বাবার ফুলবডি ব্রেক হয়েছিলো।বাবার সেই দশার প্রতিশোধ নিতেই বুলবুলি তাকে বিয়ে করে এনেছে। রাতে শশুড়ের ঘরে গিয়ে আতকে উঠে বাবুল। বিছানায় শুয়ে আছে তিন বেকা এক লোক দেখে বুঝাই যায় যে শরীরের কোনো জয়েন্টই তার আর আস্ত নাই।
ঐদিকে আন্ডা রফিক মনে মনে খুশিই হয় বুলবুলির কান্ড দেখে কারন তাকে ভালোবেসে সে একদা বলেছিলো তোমার জন্য মরতে পারি ও সুন্দরী তুমি গলার মালা। কিন্তু এমন কথাই যে তার গলায় ফাঁস হয়ে আটকাবে সে ঘুন্নাক্ষরেও বুঝতে পারে নাই।
বুলবুলি তাকেই কিনা ঐ মরন যমের সামনে দাড় করাতে চেয়েছিলো। যাইহোক তারপরও সে বুলবুলিকে ফাপড় দেয় যে তার জন্য বডি বানাতে গিয়ে তার কত ডজন ডিম খেতে হয়েছে বাজারে এখনো বাকি আছে।
সেই টাকা ফেরত চায় সে। সামনের খেলায় তার কোনো প্রতিদ্বন্ধি নেই দেখে বাঘা খালেক হা-পিত্যেস করে। সারাক্ষন তার হাতপা নিশপিশ করে। কিন্তু লোক মারফত বুলবুলির নিয়ে আসা ক্যান্ডিডেটের খবরে সে গাঁ ঝাড়া দিয়ে উঠে।
গ্রামবাসীর সামনে বাবুল যতই চাপাবাজি করুক কিন্তু ফাক পেলেই সে পালাবে সেটা সে মনস্থির করে কিন্তু সারাক্ষন তার পিছনে লেগে থাকা আন্ডা রফিকের কারনে পারে না। একদিন সেই মালটাকে স্ব-চোক্ষে দেখার জন্য বাঘা খালেকের বাড়ি যায় বাবুল।
বক্ষে কাঁপন ধরে যায় তার দেখে উঠোনে বসে সারা গাঁয় তেল মাখিয়ে দিচ্ছে খালেকের বউ জরিনা। অজান্তে নিচের প্যান্ট ভিজে যায় বাবুলের। বাবুল খালেকের সাথে পরিচয় হয়ে ঘুষ সাধে হেরে যাবার জন্য। তখনই খালেকের এক চড়ে সে নড়াচড়ার শক্তি হারিয়ে ফেলে এক কানে আর শুনতে পারে না।
বুলবুলি তার বাবাকে শোনায় তার স্বামীর কীর্তি কিভাবে সে তিন মনি এক লোককে মাথায় তোলে আছাড় মেরেছে। বাবার চোখে কিঞ্চিত অবিশ্বাস দেখে বুলবুলি বাবুলকে হুকুম দেয় তখনই বাবুল আস্ত একটা কলাগাছ টেনে তুলে দেখায়।
কিন্তু বাবুল জানে ঐ বাঘা খালেক তাকে ঝাপটে ধরলে তাকে টেনে তোলার মত কেউ থাকবে না। একদিকে ভালোবাসা আরেকদিকে নিজের জান কি করবে সে ভেবে পায় না। অতঃপর বলি খেলার তিনদিন আগে সুযোগ বুঝে সে পালায়।
উপায় না পেয়ে বুলবুলি পুনরায় আন্ডা রফিকের উপর ভর করে তাকে বিভিন্ন ছলাকলা দেখায়। রফিক পড়ে মাইনকার চিপায় তার হাতে এখন হাসের আন্ডা আর গলায় সাগর কলার মালা ঝুলে। বাঘার বউ জরিনা আবার আন্ডার উপরে ক্রাশ।
সে রফিককে বুদ্ধি দেয় লড়াই করার। তার স্বামীকে হারানোর দায়িত্ব তার। তারপরে পুরষ্কারের টাকা নিয়ে দু’জনে পগাড়পাড়। এসে পড়ে সেই দিনক্ষন। গ্রামে মাইকিং হচ্ছে। জেলা শহরের মাঠটাতে লাল নীল কাগজের সয়লাভ।
মূর্ছমূর্ছ করতালিতে মাঠের মাঝখানে নেংটি পড়ে দাঁড়িয়ে বাঘা খালেক তখন ক্ষুদার্ত বাঘের মত শিকারের অপেক্ষায়। জরিনার ভরসায় যখন আন্ডা তার সামনে তখন বুলবুলি তার বাবাকে ভ্যানে শুইয়ে দর্শকের সাড়িতে। এক আছাড়েই যখন আন্ডা তার জানটা নিয়ে নিভু নিভু হয় জরিনার দিকে তাকিয়ে তখন মুচকি হাসে খালেক।
যে হাসি দেখে কলিজা কাপে জরিনার। মাত্র রেফারি বাঘাকে জয়ী ঘোষনা করবে তখনই সেখানে বুলবুলিকে চমকে দিয়ে উপস্থিত হয় বাবুল সে বাঘাকে চ্যালেঞ্জ করে। বাঘা তখন বলে যদি বাবুল হারে তাহলে বুলবুলি তার। এ কথায় চমকে ওঠে জরিনা। চ্যালেঞ্জ নেয় বাবুল শুরু হয় দম বন্ধ করা লড়াই।
তুমুল লড়াই এর পর একসময় অবিশ্বাস্যভাবে দশ বারের চ্যাম্পিয়ন বাঘা খালেককে হারিয়ে জিতে যায় বাবুল। আরো অবিশ্বাস্যভাবে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ভ্যানের উপর দাঁড়িয়ে যায় বুলবুলির বাপ। বুলবুলির চোখে তখন জল।
বাবুল জানায় সে পালায়নি শুধু ভালোবাসার টানেই সে ফিরে এসেছে। আর ভালোবাসার শক্তির কাছে দুনিয়ার সবকিছু তুচ্ছ। জরিনা অবাক হয়ে খালেককে বলে, হাইরা গেলা? খালেক জানায়, সে ইচ্ছে করেই হেরেছে জীবনের খেলায় যে পরাজিত তার আর এই খেলায় জয়ী হয়ে লাভ কি?