কুড়িগ্রামে এক যুবকের বাড়িতে নিজ নিজ সন্তানের স্বীকৃতির দাবি নিয়ে দুই নারী অবস্থান করছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া এলাকার আপেল মাহমুদের বাড়িতে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আপেল মাহমুদ গাঢাকা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, আপেল মাহমুদ ওই এলাকার আবু হোসেনের ছেলে।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার থেকে ওই দুই নারী স্ত্রী ও নিজ নিজ সন্তানর স্বীকৃতির দাবিতে আপেল মাহমুদের বাড়িতে অবস্থান করছে। অবস্থানরত শারমিন আক্তারের ৮ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান এবং হোসনে আরার সাথে ১৬ মাস বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

ঘটনাটি বিভিন্ন এলাকায় জানাজানি হলে, ওই বাড়িতে ভিড় করছে উৎসুক নারী ও পুরুষ।

হোসনে আরার হাস্যমতে, ২০১৩ সালে কুমিল্লায় লেখাপড়ার সময় আপেল হোসনে আরার ভাসমতে, মাহমুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হোসনে আরা কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে।

ভুক্তভোগী হোসনে আরা বলেন, আমি ও আমার সন্তানের পিতার স্বীকৃতি চাই। এ দাবিতে আমি এখানে অবস্থান করছি। আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাবো না।

অন্যদিকে, শারমিন আক্তার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার টোকাইর কান্দি গ্রামের আলিম উদ্দিনের মেয়ে। সে জানায়, আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি ও আমার সন্তানের পিতার স্বীকৃতি চাই। আমি সংসার করতে চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবো।

তিনি আরও বলেন, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে কুমিল্লার লাকসাম এলাকার জান্নাতি নামের আরও এক নারীকে মাহমুদ বিয়ে করে বলেও অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা দেলবর ও মকবুল হোসেন জানান, গত রবিবার থেকে দুই নারী এখানে অবস্থান করছে। এতে এলাকায় মানুষের ভিড় বেড়েছে এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আপেল মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি, তবে এখনো এর সত্যতা যাচাই হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।