মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর তানোর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলের দিকে গোল্লাপাড়া বাজারস্থ বরেন্দ্র ক্যাবল ভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও দোয়া। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান।

তিনি গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণ করে বলেন, আজ তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে লাল সবুজের পতাকা পেয়েছে দেশ, অর্জন করেছে স্বাধীনতা। দেশ স্বাধীনের পর থেকে কখনো বাকশাল কখনো ফ্যাসিস্ট আবার কেউ হয়েছেন স্বৈরাচার। দেশের ক্লান্তি লগ্নে সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের হাল ধরে ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল তখন বিপদগামী সেনারা তাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। পুনরায় দেশ খাদের কিনারায় চলে যায়। দলের হাল ধরে গণতন্ত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মরহুমা বেগম জিয়া। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সৈর শাসক এরশাদের এক তরফা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেননি বিএনপি। সবাই কথা দেয়ার পরও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। যার কারনে বেগম জিয়াকে আপোষ হীন নেত্রী বলা হয়। এর ফলে ৯১ সালের নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত নারী প্রধানমন্ত্রী হন মরহুমা বেগম জিয়া।

বিগত স্বৈরাচার সরকারের শাসন আমলে কোন অন্যয়ের কাছে আপোষের জন্য নানা ভাবে চাপ দেয় ফ্যাসিস্ট সরকার। কিন্তু কোন কিছুর কাছে মাতা নত করেননি তিনি। স্বৈরাচার পালিয়েছে। দেশের চরম ক্লান্তি লগ্নে গত ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোষ হীন নেত্রী মরহুমা বেগম জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান। সুতরাং আমাদের কে বুঝতে হবে দেশ যখন বিপদগ্রস্ত তখনই দেশের হাল ধরে দেশকে ও গণতন্ত্রকে পুন প্রতিষ্ঠা করেছেন বিএনপি। আমাদের কে সব ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা এআসনে বিজয় হতে পারিনি।

অবশ্যই আমাদের ভুলত্রুটি ছিল। আগামীতে স্থানীয় নির্বাচন আছে। দল যাকে প্রার্থী করবেন তার হয়ে সবাই কে কাজ করতে হবে। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক প্রভাষক নুরুল ইসলাম, তানোর পৌর বিএনপির আহবায়ক একরাম আলী মোল্লা, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি পলি বেগম, পাঁচন্দর ইউপি বিএনপির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আরশাদ আলী, মুন্ডুমালা পৌর বিএনপি নেতা সাবেক কাউন্সিলর আতাউর রহমান , কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপি বিএনপির সভাপতি প্রভাষক জাহিদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম মুর্তজা, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান, ইউপি যুবদল নেতা জামাল দেওয়ান প্রমুখ।

শেষে বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও দেশ এবং জাতীর কল্যান কামনা বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক। এসময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।