বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আজ এক বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে মিছিলের নেতৃত্ব দেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। মিছিলের পূর্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার গঠনের দেড় মাসের মধ্যে একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।এতে জামায়াত-এনসিপি জোটসহ স্বার্থান্বেষী মহলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, যা অতীতের আওয়ামী অপকৌশলের পুনরাবৃত্তি।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে জামায়তের আমীরের বক্তব্যের সমালোচনর জবাবে প্রিন্স বলেন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক বলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে বিধানের আওতায় ডক্টর ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিস্ট মেয়র-চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল। একই বিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারও নিয়োগ দিয়েছে। এটি শতভাগ বৈধ। বরং এই নিয়োগকে অবৈধ বলা আইনের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৫ মার্চের কালরাতে বর্বরোচিত হামলার পর জাতি যখন দিকনির্দেশনায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। তার সেই সাহসী আহ্বান মুক্তিযুদ্ধকে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ দেয় এবং দেশবাসীকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে।
প্রিন্স বলেন, একাত্তরে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও তারা জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। এখন আবার তারাই স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ স্বাধীনতা দিবসে হালুয়াঘাটে সরকারী অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলীর বক্তব্যের সময় স্বতন্ত্র এমপির লোকজনদের বাধার প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধাদের উক্ত অনুষ্ঠান বর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি, এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। উক্ত অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপিকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অব্দুল হামিদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আশরাফ, আবদুল হাই, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন খান, ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ইঊনূস আলী খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।