গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জব্দকৃত ৯টি ঘোড়া বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে গোপনে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হলে বেকায়দায় পড়ে রবিবার বিক্রিত ঘোড়াগুলো ফেরত আনার তোরজোর চালাচ্ছে প্রশাসন। জব্দকৃত ঘোড়াগুলো নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনাসহ চলছে তোলপাড়।

এলাকাবাসী, উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে গত বছর অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করেন কিছু অসাধু মাংস ব্যবসায়ী। প্রথমে তারা ঘোড়ার মাংস প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি করলেও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে দাম বাড়িয়ে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা কখনো আরো বেশি টাকায় ঘোড়ার মাংস বিক্রি করতেন ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা।

আর বেশি লাভের আশায় ঘোড়ার মাংসকে বিভিন্ন খাবার হোটেলসহ ক্রেতাদের কাছে গরুর মাংস বলে চালিয়ে দিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কয়েক মাস বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করার পর দৃষ্টিগোচর হলে জেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন।

অভিযান চালিয়ে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রি করা বন্ধের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর গত ৩ মার্চ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় জঙ্গলে দুর্বৃত্তরা ১৬টি ঘোড়ার মাথা, পা, চামরা, নাড়িভুড়ি ফেলে রেখে মাংস নিয়ে চলে যায়।

গত ১৭ মার্চ মঙ্গলবার ভোরে এই ইউনিয়নের খলিশাজানি এলাকার জঙ্গলে ঘোড়া জবাইয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেখান থেকে ট্রাকভর্তি ৯টি ঘোড়াসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো কালিয়াকৈর থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। কিন্তু ৯/১০ দিন ঘোড়াগুলোর খাবার সংগ্রহ ও ঘোড়ার বজ্রে নষ্ট হতে থাকে থানার পরিবেশ।

এ নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় পড়ে থানা পুলিশ। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোড়াগুলো বিক্রি প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেয়। কিন্তু উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তারা ও থানা পুলিশ বিজ্ঞপ্তি না দিয়েই শনিবার জব্দকৃত ৯টি ঘোড়া মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বেকায়দায় পড়ে বিক্রিত ঘোড়াগুলো ফেরত আনার তোরজোর চালাচ্ছে প্রশাসন। জব্দকৃত ঘোড়াগুলো নামমাত্র মূল্যে বিক্রি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনাসহ তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে এসআই জামিল জব্দকৃত ওই ঘোড়া বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের দায়িত্বে ঘোড়াগুলো যেন একজনের দায়িত্বে দিয়েছেন। কিন্তু কার কাছে দিয়েছেন? সেটা জানা নেই। তবে সেগুলো নাকি আবার আনা হবে? আগামীকাল সেগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান প্রথমে ঘোড়াগুলো নিলামে ৩০ হাজার টাকা মূল্য ধরে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, থানায় ঘোড়াগুলোর খাবার দিতে পারছিল না, তাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এতো কম দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘোড়ার ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ঘোড়াগুলো বিক্রির বিষয়টি ভুল তথ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলো একজনের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তবে কার কাছে সেটা জানা নেই। এছাড়াও এবিষয়ে বিক্রয় কমিটির সভাপতি ইউএনও স্যার ও থানার ওসি সাহেব জানবেন বলেও জানান তিনি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, ওই ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি। একজনের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো ফেরত আনা হচ্ছে। একই কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন।