কুড়িগ্রামের উলিপুরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বর্তমান স্থানীয় বাজারে দরপতনে লোকসানের মূখে আলু চাষিরা। পরিবহনে কিছুটা জটিলতা এবং আলু সংরক্ষণে উপজেলায় কোন কোল্ড ষ্টোর না থাকায় লাভের মূখ না দেখতেই আলু মধ্যস্বত্ত্বরভাগীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন চাষিরা।
সরেজমিনে উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, দলদলিয়া ও থেতরাই ইউনিয়নের চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। থেতরাই ইউনিয়নের জুয়ান সাঁতরা ও দড়ি কিশোরপুরে কৃষক শেখ ফরিদ, শাহেদুল, বায়োজিদ ও রওশন মিয়া মিলে প্রায় ৩৫ একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রতি একর জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
বর্তমান বাজার দর মাত্র ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করলে একরে ২ শত ২০ বস্তা আলুর বিক্রয় মূল্য দাড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজর ৬০০ টাকা। আলু চাষি শেখ ফরিদ ও শাহেদুল জানান, বর্তমান বাজারে আলু বিক্রয় করলে লাভ তো দুরে থাক নিজের পরিশ্রমের মূল্য উঠে না। আলু সংরক্ষনের জায়গার অভাব বলে জানায় তারা।
থেতরাই ইউনিয়নের আলু চাষী রওশন আলী জানিয়েছেন, বর্তমান বাজার দরে ১১-১২ টাকা কেজিতে আলু বিক্রয় করলে আমাদের আসল টাকাই উঠে না। এত পরিশ্রম করে আলু উৎপাদন করলাম কিছু লাভের আশায়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, জেলার বাবর কোল্ড ষ্টোরে আলু সংরক্ষণ করবেন।
এই আলু সংরক্ষণ করতেই সবমিলিয়ে খরচ পড়বে উৎপাদন খরচসহ কেজি প্রতি ২৩ থেকে ২৪ টাকা। ভবিষ্যতে আলুর বাজার ২৬ থেকে ৩০ টাকায় না উঠলে আবারও কৃষকদের বড় ধরণের লোকসানের মূখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে গুনাইগাছ ইউনিয়নের অনেক কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে,উপজেলায় ১ হাজার ১ শত হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ হলেও ১ হাজার ৪ শত ৫০ হেক্টর জমি আলু চাষের আওতায় এসেছে। এরমধ্যে তিস্তা বেল্টের চরাঞ্চলেই উৎপাদন হয়েছে লক্ষমাত্রার ৮০ ভাগ আলু।অনেকেই ঋনের টাকা পরিশোধে বাধ্য হয়েই মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে আলু বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। আলু চাষী বায়োজিদ এর দাবি, কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের করে সরকারি কোনো তত্ত্বাবধানে এসব আলু যদি দেশে কিংবা বিদেশে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করে। তাহলে আলু চাষিরা লাভবান হবেন এবং ভবিষ্যতে আলু চাষে কৃষকরা আরো আগ্রহী হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন জানান, উপজেলায় আলুর লক্ষমাত্রা ৪ হাজার ২ শত ৫ মেট্রিক টন। চাহিদার চেয়ে বেশী অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি শুরুর আগেই জমি থেকে আলু উত্তোলনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের।