দেশে হঠাৎ করেই বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। এর ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাসপাতালে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর হার। সংক্রামক এ রোগ শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিনজন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাসহ ৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
এতেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে অভিভাবকদের। তবে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হামে আক্রান্ত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেশে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
সারা দেশে হাম আক্রান্তে কিছু শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলেও জানা গেছে। এর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর হার। গত কয়েক দিনে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত হামের লক্ষণ দেখা দিলে ইব্রাহিম, রাসেল ও তাওসিফ নামে তিন শিশুর চিকিৎসা দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯ জন শিশুর হামের নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সাধারণত হাম প্রতিরোধে জন্মের ৯ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে শিশুদের টিকা দেয়া হয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত শিশুদের অধিকাংশ নয় মাসের কম বয়সি।
সংক্রামক এ রোগ শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিশুদের অভিভাবকরা আতঙ্কে পড়েছেন। আর হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণ হিসেবে নিয়মিত টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াকে দুষছেন চিকিৎসকরা।
তারা বলছেন, অভিভাবকদের অবহেলাও কিছু ক্ষেত্রে বাড়িয়েছে এ শঙ্কা। তবে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে হামের প্রাদুর্ভাব কমাতে এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা টিকা কার্যক্রমের বয়সসীমা কমিয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন করার পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু টিকার বয়সসীমা নয়, কম বয়সে হামে আক্রান্তের প্রাদুর্ভাব কমাতে গর্ভাবস্থায়ও মায়েদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞরা।
আক্রান্ত শিশুদের স্বজনেরা জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল, সর্দি এবং দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে তারা শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এখন চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে আক্রান্তরা একটু ভালো আছে। আমাদের শিশুরা আক্রান্ত হওয়ার পর শুধু আমরাই নয়, বিভিন্ন এলাকার শিশুদের অভিভাবকরা আতঙ্কে রয়েছেন।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, হামের লক্ষণ নিয়ে তিন শিশু আসলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও এ হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত ৯ জন শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হাম থেকে সুরক্ষার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে শিশুদের অপুষ্টি থেকে দূরে রাখা এবং হামে আক্রান্ত রোগীদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরণের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে যেসব শিশু টিকা না দিয়েছেন, তাদের জরুরীভাবে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন কর্মকর্তা।