ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় পাইলটকে (কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা) উদ্ধারে অভিযান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে রুদ্ধশ্বাস এই অভিযানে সাফল্যের দাবি করলেও ইরান এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় ইরান থেকে সর্বশেষ খবরে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত রাতভর ইরানের দেহদাশত শহরে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও বিমান হামলা চললেও উদ্ধারকৃত পাইলটের বর্তমান অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশকিছু অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ওই কর্নেলকে উদ্ধার করেছে। অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। এটি ইরানের আকাশে আমেরিকার নিরঙ্কুশ আধিপত্যের প্রমাণ। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত কর্মকর্তা সামান্য আহত হলেও বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
তবে তেহরান থেকে পাওয়া তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেহদাশত শহরে গত রাতে অন্তত দুটি বিমান হামলা ও ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। অভিযানে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর শুরুতে আসলেও স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এই উদ্ধার অভিযানের কৌশল বা তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন পাইলটকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন পাইলটকে নিয়ে উদ্ধারকারী দলটি সফলভাবে ইরানের সীমানা পার হতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে এখনও বড় ধরণের প্রশ্ন রয়ে গেছে।
উদ্ধারকৃত কর্মকর্তা এখনও ইরানি বাহিনীর নজরদারিতে বা তাদের ভূখণ্ডের ভেতরেই আটকা পড়ে আছেন কি না—সেই ধোঁয়াশা কাটাতে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি।