রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হিলি গ্রামের বাসীন্দা ফারায়েজ হোসেন ২ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় এখন আর তিনি মাদ্রাসায় যেতে পারছেন না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবগত করার পর এ ব্যাপারে মামলাও রুজু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও অবশ্য খবর লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
উক্ত সুপার হিলি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ফারায়েজ হোসেন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন-২০১০ সালে তিনি পার্শ^বর্তী সাদুল্যাপুর উপজেলার তরফবাজিত দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসায় সুপার হিসেবে যোগদান করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তরফবাজিত গ্রামের রেজাউল ইসলাম রেজা সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারামলে উক্ত ব্যক্তি ক্ষতার দাপটে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ওই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিতে টানা ২৫ বছর সভাপতি ছিলেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৭ টি নিয়োগ দেন।
নিয়োগ বানিজ্যসহ নানা অপকর্ম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাকে সহযোগিতা করেছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের শরীরচর্চা শিক্ষক একরামুল ও সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা বেগম।
ভিন্ন এবং দুরবর্তী এলাকায় বাড়ি হবার কারনে সে সময় কোন প্রকার বাধা দেয়া বা প্রতিবাদ করার সাহস ছিল না। পট পরিবর্তনের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এসবের বিরোধিতা করায় তারা সুপারের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা গত ২৯ মার্চ সংঘবদ্ধভাবে মাদ্রাসায় গিয়ে সুপার ফারায়েজের উপর চড়াও হয়ে এলাপাথাড়ী কিলঘুষি ও মারপিট করে। এরপর মাদ্রাসায় গেলে তাকে খুন করারও হুমকি দেন।
এলাকাবাসী আহত ফারায়েজকে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি কাজল মিয়া বলেন সে সময় রেজাউল করিম রেজা ২১ টি পদে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগ নিয়ে নানান মুখরোচক কথা আছে। সুপারকে মারপিটের ঘটনা সত্য এবং এদের ভয়ে তিনি আর মাদ্রাসায় যেতে পারছেন না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন-তদন্ত চলমান এবং আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।