নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২৪ ঘণ্টায় মিলছে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ। দিনে ১-২ ঘন্টা পর পর দেয়া হচ্ছে লোডশেডিং। বৈশাখের প্রখর রোদ আর গত ৩-৪ দিন থেকে ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শিশু সহ বয়স্ক মানুষ। সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন (৫২) বলেন, দিনোত কামকাজ করিয়া বাড়িত যায়া দ্যাখো কারেন্ট নাই। ঠান্ডা হওয়ার জন্যে ঝাড়বাড়িত বসি থাকির নাগেছে। কারেন্টের জন্যে আইতোত এ্যানা ঘুমিবার পাওছোনা। এ্যাইলা জ্বালা কার সয় কন ছেই।
বাংগালীপুর নীজপাড়ার মুদি দোকানদার কবির সরদার বলেন, রাতে ২-১ বার কারেন্ট চলে গেলেও দিনে কিন্তু কারেন্ট যায় একাধিকবার। কারেন্ট যদি আসে তখন থাকে মাত্র এক ঘন্টার মতো।
সৈয়দপুর নেসকোর তথ্যমতে, উপজেলায় দিনে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না। তারা বলেন, বিদ্যুতের মোট গ্রাহক রয়েছেন ৫৮ হাজার। এসব গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে ঘরের বাইরে কাটাতে হচ্ছে অনেককে। রাতে লোডশেডিং হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম বিঘ্ন ঘটছে।
তবে, বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রাতের পড়তে বসে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে মোমবাতি বা চার্জার লাইটের ওপর নির্ভর করছেন। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং চলছে। কারেন্ট নাই আবার গরম সবমিলে ঠিকমত পরীক্ষায় মন বসছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ইউনিয়নের গ্রাম গঞ্জে দিনে কিছুটা সময় বিদ্যুৎ থাকলেও রাতের চিত্র ভয়াবহ। দিনরাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গিয়ে রাত ৯টার দিকে একবার এলেও তার স্থায়িত্ব আধা ঘন্টার বেশি হচ্ছে না। খাতামধুপুর ইউনিয়নের অটোরিকশা চালক সোহেল রানা বলেন, কারেন্ট না থাকায় বেশিরভাগ সময় গাড়ীতে চার্জ দিতে পারছি না। সারা দিন পরিশ্রম করি। রাতে ঘুমাইতে গেলে দেখি কারেন্ট নাই। এভাবে কি জীবনযাপন করা সম্ভব!
সৈয়দপুর নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মো: মেহেদি হাসান বলেন, পার্বতীপুর উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু ৫৮ হাজার গ্রাহকের জন্য পাচ্ছি মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। একারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।