রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া হাফেজিযা মাদ্রাসা ও এতিমখানা। যার প্রতিষ্ঠাতা ও মোহতামিম হাফেজ মাওলানা মোসাদ্দিক বিল্লাহ। এ মাদ্রাসার অভ্যন্তরের অনৈতিক ঘটনা নিয়ে লেখার ইচ্ছে ছিলনা বলেই কোন কিছু লিখিনি। না লেখার কারনে অনেক কথাও শুনতে হচ্ছে। কথায় আছে-‘ উটের বদ নাম শহরে। বাধ্য হয়ে আমার ঘেলুবিহীন মাথায যা এসেছে, তা তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র।
আমি ভাল লিখতে পারিনা। তাই লেখায় ভূল ত্রুটি হতে পারে। এজন্য আগেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বর্নিত মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ মোসাদ্দিক বিল্লাহ। বাবা মরহুম মজিবর রহমান বাড়ী জাফর পাড়াতেই।
মাদ্রাসার কোমল মতি ছাত্রের সাথে অনৈতিক ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই মোহতামিম। ঘটনাটি সত্য বা অসত্য তা হলফ করে বলা কঠিন। তবে এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারনাসহ টক অবদ্যা এরিযায় পরিনত হয়। ইতোমধ্যে ছাত্র- শিক্ষকের মাঝে অনৈতিক কর্মান্ডের ঘটনা নিয়ে নানান কথা শোনা যা্ছে।
যেখানে কুরআনের হাফেজ তৈরী হয়। কুরআনের পাখিরা দিবা-রাত্র তেলওয়াত করে। ধর্মীয় এসব মাদ্রাসার প্রতি মুসলমানদের দুর্বলতাটা সবার জানা। মুসলমানদের এই দুর্বলতা অনুভূতিকে পুঁজি করে মাদ্রাসা গুলোর কোন-কোন মোহতামিম ছাত্রদের দ্বারা এলাকায় বাড়ী-বাড়ী ধানচালসহ রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাদ্রাসার উন্নয়নে টাকা পয়সা আদায় করে থাকেন।
এ আদায়ের একটা বড় অংশ ওই মোহতামিমের পকেটে চলে যায বলে চাউড় আছে।
এছাড়াও এতিম ও দু:স্থ শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের দেযা ক্যাপিটেশন গ্রান্টের টাকারও বড় অংশ চলে যায় মোহতামিমসহ মাদ্রাসা পরিচালানা কমিটির পকেটে এমন অভিযোগও কম না। কোন কোন মোহতামিম এসেছেন খালী । এখন ক’ বছর যেতে না যেতেই তাঁদের অনেকেই ফুলে ফেঁ,পে হয়েছেন ” আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ” ।
এসব মাদ্রাসায় কোন জাতীয় দিবস পালন হয় না। গত ২৬ মার্চ বেশ কটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সরেজমিন দেখাকালে এলাকাবসী এসব কথা বলেন। মাদ্রাসাগুলো খোলা পাওয়া যায়নি। সরকারের ক্যাপিটেশন গ্রান্টভুক্ত এতিমখানায় রাষ্ট্রিয় বিশেষ-বিশেষ দিনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের কথা থাকলেও ২/৩ টি ছাড়া অন্য সব মাদ্রাসা ও এতিমখানা বন্ধ পাওয়া যায়। পীরগঞ্জ উপজেলার সরকারের ক্যাপিটেশন গ্রান্টভুক্ত হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানা ২৪ টি।
বাকী যাক যে কথা বলছিলাম, জাফরপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার অভ্যন্তরে কি ঘটেছে? যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইনিয়ে- বিনিয়ে বলার চেষ্টা করা হয়েছে মাদ্রাসার মোহতামিমের ছাত্রের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবী সাবেক কোন এক হুজুর কোমল মতি ছাত্রদেরকে টাকা দিয়ে এমন অসত্য ঘটনা প্রকাশ করেছে ( ! ) ছাত্ররাও আবার বোল পাল্টিয়ে এক মূখে দু’রকম কথা বলছেন। আমাদের এলাকায় একটা প্রচলিত প্রবাদের কথা মনেপড়ে গেল। প্রবাদটি হলো শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না।
যে মাদ্রাসায় কুরআনের হাফেজ তৈরী হয়, সে মাদ্রাসায় কি নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া হয়না? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্পক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার। যদি ঘটনা সত্য হয়ে থাকে তাহলে জড়িত মোহতামিমকে আইনের আওতায় নেয়া হোক। সত্য না হলে যারা অসত্য প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। সত্য হোক বা অসত্য হোক।
আমরা ধর্মীয় এসব মাদ্রাসা ও এতিম খানা সম্পর্কে এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনার কথা শুনতে চাইনা। আমরা চাই, ইসলামের অমোঘবানী বুকে ধারণ করে ফি-বছর বেশী-বেশী সংখ্যক ছাত্র হাফেজ হয়ে বেরিয়ে যাক এসব মাদ্রাসা থেকে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিক ইসলাম ও আল- কুরআনের আলো।