জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিমলা উপজেলায় চালু হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। উদ্বোধনের দিনেই ১০টি ইউনিয়নের যাচাইকৃত ২ হাজার ৫০০ মোটরসাইকেল চালকের মাঝে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান। এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত ও বাজারে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। শুধুমাত্র ডিমলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং কর্মরত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই আবেদন করার সুযোগ পান।
পাশাপাশি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন মালিকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসন জানায়, তেলের মজুত ও সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত মজুত প্রবণতা রোধ করতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পৃথক মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলার সব ফিলিং স্টেশনে এ নির্দেশনা কার্যকর করতে তদারকি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে তেলের অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে চালকদের ভিড় দেখা যায়। তবে সার্বিকভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান জানান, ভবিষ্যতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে আরও ফুয়েল কার্ড ইস্যু করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর ও টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।