রাজশাহীর তানোরে প্রশাসনের নির্দেশ লঙ্ঘন এবং পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে ফেলে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে জোরপুর্বক পুকুর ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার ময়েনপুর গ্রামে ৩ বিঘা আয়তনের এই পুকুর ভরাট করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়ার গেছে।ওইসব এলাকা বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষার জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তার মধ্যে খাল খনন, পুরাতন খাস পুর পুন:খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং অনেক খাস পুকুর বিএমডিএর মাধ্যমে খনন করা হয়েছে। অথচ ক্ষমতার দাপটে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। যা গ্রামের লোকজন ভরাট হয়ে গেলে যাবতীয় গৃহস্থ কাজের জন্য পানি ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভরাট বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি তুলেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার ময়েনপুর মৌজায় ২৮২ নম্বর খতিয়ানে ১৭১৯ দাগে ৩ বিঘা আয়তনের পুকুর রয়েছে। ময়েনপুর মহল্লার বাসিন্দা ঝাটু শেখের পুত্র সেন্টু শেখ দিগর এই পুকুর ভরাট করছেন। সেন্টুর এক ভাই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা পুকুর ভরাট করছে। পুকুর ভরাটে বাধা দেয়ায় ওই দারোগা গ্রামবাসীকে নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
এঘটনায় গত ২৮ এপ্রিল তাজিমুল ইসলাম বাদি হয়ে সেন্টুসহ ৩ জনকে বিবাদী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু তারপরও তারা পুকুর ভরাট অব্যাহত রেখেছে। ভুক্তভোগীরা রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্রয় ও ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত হয়ে ওই পুকুর দীর্ঘদিন যাবত শান্তিপূর্ণ ভাবে তাজিমুলের পরিবার ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু বিবাদীগণ গত ১০ এপ্রিল থেকে বেআইনিভাবে ও জোরপূর্বক তাদের দখলীয় পুকুরে বাইরে থেকে গাড়ি করে মাটি নিয়ে এসে ভরাট করছেন। তারা বাধা দিতে গেলে সেন্টুর বাহিনী তাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
অন্যদিকে পুকুর ভরাটে অভিনব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে একেবারে পুকুর ভরাট না করে দু’একদিন পর পর রাঁতের আঁধারে পুকুরে মাটি ফেলা হচ্ছে। গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়ন (ইউপি) থেকে মাটি নিয়ে আসছে। আর ট্রাক্টরে এসব মাটি পরিবহণ করতে গিয়ে এলাকার পাকা-কাচা রাস্তা নষ্ট ও পরিবেশ দূষণ করা হয়। কিন্তু সেন্টুর ভাই পুলিশের এসআই (দারোগা) হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাঈমা খান জানান, পুকুর ভরাটের কোন সুযোগ নেই। অভিযোগ হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।