পবিত্র কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ জেলায় জাল টাকার দাপট আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। হাট-বাজার, শপিংমল ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় জাল নোটের বিস্তার বাড়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে পশু ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন কেনাকাটায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র জাল টাকা বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বেশি জাল হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী অজান্তেই এসব জাল টাকা গ্রহণ করে পরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
জেলার ভাটই বাজার, বৈডাঙ্গা বাজার, গান্না বাজার, নারিকেলবাড়িয়া বাজার পশুর হাট ও তেঁতুলতলা, বিষয়খালী, গোয়ালপাড়া, হাটগোপালপুর, কাঁচেরকোল, শেখপাড়া, চড়ইবিল, হাটফাজিলপুর, লাঙ্গলবাদ, খালিশপুর, ভৈরবা, কোটচাঁদপুর ধানের হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতাদের অতিরিক্ত ভিড় এবং দ্রুত লেনদেনের কারণে টাকা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জাল টাকা সহজেই লেনদেনে ঢুকে যাচ্ছে।
এক পশু ব্যবসায়ী বলেন, “ঈদের সময় বেচাকেনা বেশি থাকে, তাই সব টাকা ভালোভাবে যাচাই করা যায় না। পরে বুঝতে পারি কিছু নোট জাল ছিল।” এদিকে সাধারণ ক্রেতারাও আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, অজান্তেই তারা জাল টাকা গ্রহণ করে প্রতারিত হতে পারেন।
এতে করে কোরবানি ঈদের আনন্দ ম্লান হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা গ্রহণের সময় জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও রঙ পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে লক্ষ্য করলে জাল নোট শনাক্ত করা সম্ভব। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এমন পরিস্থিতিতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারিই পারে জাল টাকার দৌরাত্ম্য কমাতেÑএমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।