কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এখন প্রায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবনগুলোতে বসবাস করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ এবং হারাচ্ছে রাজস্ব।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য মোট ৫টি ভবনে ৩০টি আবাসিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৮ সালে নির্মিত দুটি ভবন এবং ২০০৫ সালে নির্মিত আরও তিনটি ভবনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোয়ার্টারগুলোর চারপাশে আগাছা ও শ্যাওলা জমে এক ধরনের পরিত্যক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে অনেকটা ভুতুড়ে ভবনের মতো মনে হয়। বিদ্যুৎ ও পানির লাইনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

বর্তমানে ৩০টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬টিতে কোনোভাবে বসবাস করছেন কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী। তারাও নিজেদের উদ্যোগে মেরামত করে সেখানে অবস্থান করছেন। তবে কোনো চিকিৎসক এই কোয়ার্টারে থাকতে আগ্রহী নন। ফলে চিকিৎসকদের আবাসন সংকট তৈরি হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায়।

নিয়ম অনুযায়ী, এসব কোয়ার্টারে বসবাসের জন্য চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বেতন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা কর্তন করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ইউনিট বসবাসের অনুপযোগী থাকায় সেগুলো খালি পড়ে আছে। এতে করে সরকার প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কোয়ার্টারে বসবাসরত একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। বিদ্যুতের তারও অনেক জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ। ভয় নিয়ে থাকতে হয় প্রতিদিন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, কোয়ার্টারগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসন অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে কোয়ার্টারগুলো সংস্কার ও বাসযোগ্য করার দাবি জানিয়েছেন তারা।