ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক সহিংসতার রেশ এসে লেগেছে সীমান্ত জনপদে। ওপারে মুর্শিদাবাদের করিমপুর ও জলঙ্গী এলাকায় উত্তেজনার খবরে এপারে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মূলত অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার দীর্ঘ সীমান্তপথ রয়েছে। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় এই পথ দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়ন তাদের টহল কার্যক্রম ও জনবল বৃদ্ধি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারীর দুর্গম চরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল দলগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর। তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্ট’ সংলগ্ন ফসলি জমি ও মেঠোপথে বিজিবি সদস্যদের নিয়মিত ফ্ল্যাগ মার্চ করতে দেখা গেছে।
কাঁটাতারের ওপারে ভারতের করিমপুর ও জলঙ্গী সীমান্তের গ্রামগুলোতে সুনসান নীরবতা থাকলেও এপারে বিজিবির চৌকিগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের নজরদারি। বিশেষ করে রাতে পদ্মা নদীর চরাঞ্চল দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেজন্য শক্তিশালী সার্চলাইট ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন জওয়ানরা।
দৌলতপুরের চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, জনমনে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও বিজিবির তৎপরতায় তারা আশ্বস্ত।
রামকৃষ্ণপুর এলাকার কৃষক মো. রহমত আলী বলেন, শুনেছি ওপারে মারামারি হচ্ছে। আমরা সীমান্তের খুব কাছে থাকি, তাই একটু ভয় তো লাগেই। তবে দুই-তিন দিন ধরে দেখছি বিজিবির ভাইরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পাহারা দিচ্ছে। রাতেও তাদের টহল দেখা যাচ্ছে, এতে আমরা নিরাপদ বোধ করছি।
মহিষকুণ্ডি এলাকার স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জামিল হোসেন জানান, সীমান্তে এমনিতেই কড়াকড়ি থাকে। তবে এখন বিজিবি বেশি সতর্ক। ওপার থেকে কেউ যেন ঝামেলা করতে না পারে বা এপারে ঢুকে না পড়ে, সেজন্য বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয়রাও সজাগ আছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ওপারে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে যাতে কোনো গোষ্ঠী এপারে আশ্রয় নিতে না পারে বা মাদক ও চোরাচালান বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে কঠোর নজর দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা মূলত শহরকেন্দ্রিক। এখন পর্যন্ত সীমান্তে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত।
বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অবৈধ চলাচলের তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবিকে জানানোর জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আপাতত দৌলতপুরের সীমান্ত এলাকা শান্ত থাকলেও ওপার বাংলার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে সীমান্ত রক্ষীবাহিনী