মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ/মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার। নামে অফিসার, কিন্তু এরা এদেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী!

এরা সবাই উচ্চশিক্ষিত। সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডে পড়াশোনা করা BSc/MSc ডিগ্রিধারী, স্মার্ট, ভালো আদব কায়দা জানা মানুষ এরা।

এরাই বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিনতম চাকুরীটা করে। ঝড়,বৃষ্টি, রোদ,ঠান্ডা, গরম কিছুতেই ওদের কিছু আসে যায় না। এদের চাকুরী শুরু হয় সকাল ৮ টায় কিন্তু শেষের কোন টাইম নাই। মোটামুটি সকাল ৮ টা টু রাত ১২ টা। এটাই ওদের রুটিন।

দোকানদার,রুগী,ডাক্তার,নার্স সবার সংগে ওদের কাজ করতে হয়। অনেক কষ্ট বুকে চেপে সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতে হয়।

শরীর,মন সব ভেংগে আসলেও ওরা ভেংগে পড়ে না। করোনাকালে সবাই যখন ঘরে, তখন ওরা রাস্তায়। হরতাল,অবরোধ ওদের কাছে কিছুই ম্যাটার করে না।

ওদের জন্যে আমার খুব মায়া হয়। ক্লিনিক বা হাসপাতালে গেলে আমি ওদেরকে লক্ষ্য করি। নার্স,এটেন্ডেন্ট,ডাক্তাররা ওদের সাথে কি বিহ্যাভ করে, তা আমি দেখি। চুপচুপ শুধু দেখি। একদিন আমার একজন্ রোগীর একটা টেস্টে এক বোতল পানি দরকার, আমি নীচে কোথাও পানির বোতল পাইনি। কিন্তু একজন রিপ্রেজেন্টেটিভ সেটা লক্ষ্য করেছিলেন। উনি স্বেচ্ছায় তার ব্যাগ থেকে হাসিমুখে আমার জন্যে এক বোতল পানি দিয়েছিলেন!

হাসপাতালের দালাল এরা না। আসল দালালদের না ধরে, এই অফিসারদের যারা দালাল বলে ধরে নিচ্ছেন, জেনে রাখুন এরা আপনার চেয়ে শিক্ষায়,যোগ্যতায়,সততায়, ব্যবহারে দুই/চার ধাপ উপরের মানুষ।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ওরা আজ ” মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ।” আর আপনাদের চোখে “দালাল”।