রাজশাহীর তানোর-চৌবাড়িয়া হাটের প্রবেশ মুখের রাস্তায় ভয়ংকর গর্ত সৃষ্টি হয়ে কাঁদা পানি জমি থাকছে। বাধ্য হয়ে পথচারীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছেন। আর ঝুকি নিয়ে চলাচলের জন্য প্রতি নিয়তই ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। গর্তে জমে থাকা কাদা পানির জন্য রাস্তার মাঝে দিয়ে ছোট কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা।

ফলে রাস্তাটি হাজারো পথচারী ও গরু ব্যবসায়ীদের গলার কাটা হয়ে পড়েছে। বিগত প্রায় বছর ধরে এমন অবস্থা চললেও মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঐতিহ্য বাহি গরু হাট চৌবাড়িয়া হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের জোর দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা জানান, উত্তর বঙ্গের মধ্যে অন্যতম পশুর হাট বসে চৌবাড়িয়াতে। প্রতি শুক্রবার হাটবার। এছাড়াও তানোর, মান্দা, নিয়ামত উপজেলার সীমান্ত বর্তি হাট হিসেবে পরিচিত চৌবাড়িয়া হাটটি। প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার গরু বহনকারী গাড়ী ও ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন গরু ছাগল ক্রয় বিক্রয়ের জন্য। রাজস্ব খাতে রাখে বড় ভূমিকা। মান্দা, নিয়ামত থেকে আসা যাওয়ার পথে রাস্তায় তেমন গর্ত নেই। কিন্তু তানোর থেকে চৌবাড়িয়া হাটে প্রবেশের প্রায় ৪০/৫০ হাত রাস্তায় ভয়ংকর গর্ত হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যায়।

রাস্তায় পুরাতন মাটি বের হয়ে পড়েছে। উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে সেই রাস্তার ভয়ংকর গর্ত দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছেন জনসাধারণ।

গরু ব্যবসায়ী নসিম, বাবুল, কালামসহ অনেকে জানান, চৌবাড়িয়া হাটে যেতে মন চায় না। কারন হাটে প্রবেশের রাস্তায় যে পরিমান গর্ত হয়ে আছে। গাড়ি যাওয়া মাত্রই পুতে যায়। সৃষ্টি হয় ভয়বহ যানজট। প্রতি শুক্রবার হাজার হাজার গাড়ি ও কয়েক লাখ ক্রেতা বিক্রেতার আগমন ঘটে হাটে। চার দিক দিয়ে হাটে প্রবেশ করা যায়। কিন্তু শুধু তানোর থেকে যাওয়ার সময় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়।

হাটের ব্যবসায়ী সানাউল্লাহ সহ অনেকে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা হয়ে থাকলেও কোন গুরুত্ব নেই কর্তৃপক্ষের। মনে হয় সবাই ঘুমিয়ে আছে। ফেসবুকে প্রতি নিয়তই রাস্তার দূর্ভোগের চিত্র কেউ না কেউ তুলে ধরলেও কোন প্রতিকার নেই।

মোটরসাইকেল চালক, জাহাঙ্গীর, লুৎফর, বুলবুলসহ অনেকে জানান, রাস্তায় এতই পরিমাণ ছোট বড় গর্ত হয়ে আছে যে মাঝে দিয়ে চলাচল করা যায় না। রাস্তাটি নির্মানের সময় যত সামান্য খোয়া পিচ দিয়ে দায়সারা কাজ করা হয়েছে।
অটোভ্যান চালক, তৈয়ব, বাবু, নাইমসহ অনেকে জানান, থানা মোড় থেকে চৌবাড়িয়া ভাড়া মারা যায় না। কারন চৌবাড়িয়া হাটে প্রবেশের রাস্তা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে যাওয়া যায়না।

যতটুকু ভালো আছে সেখান দিয়ে মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচল করতে পারে। এছাড়াও লবিয়তলা ব্রীজের উত্তর দিকেও ভয়ানক গর্ত হয়ে ছিল। সেই গর্তে ইট দেয়া আছে। গত বর্ষা মৌসুমে ইট বালি দেয়া হয়। কিন্তু তার পাশ দিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেটিও এখন ঝুঁকি পূর্ণ। চাপড়া ব্রীজের রাস্তা ঘেষে পূর্ব দিকে গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে। যে কোন সময় রাস্তা ধসে পড়তে পারে। নতুন ভাবে ব্রীজ নির্মাণের জন্য এঅবস্থা। অথচ এক সাথে কাজ শুরুর পর লবিয়তলা ব্রীজ নির্মাণ শেষে উদ্বোধন হয়ে চলাচল করছে। কিন্তু চাপড়া ব্রীজের দৃশ্যমান কাজ হয়নি।

সুত্রে জানা যায়, লোকাল গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট (আরসিআইসি) প্রকল্পের রাস্তাটি। অর্থায়নে এডিবি এন্ড গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ (জিওবি)। রোড আইডি ১৮১৯৪২০০২। রাস্তার আয়তন ১০.১৪ কিলোমিটার। কাজের ওয়ার্কাডার দেয়া হয় ২০২০ সালের ৩০ আগষ্টে। ঠিকাদারের নাম দেয়া আছে মঈনউদ্দীন বাসি লিমিটেড। তার ঠিকানা ০৭ এইচএম রোড যশোর।

কাজের বরাদ্দ ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৬ টাকা। তবে কার্যাদেশ মঈনউদ্দীন বাসির নামে থাকলেও রাস্তার কাজ করেছেন রাজশাহী শহরের প্রভাবশালী ঠিকাদার ওয়াসিম।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায় , তানোর সড়কের চৌবাড়িয়া হাটের প্রবেশ মুখে তানোর উপজেলা সীমানার রাস্তায় লালচে কাঁদা পানি জমে আছে। গর্ত ও কাঁদা পানির কারনে যানবাহন চলছে ধীর গতিতে।

কিছু স্থান জুড়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার মাঝে দিয়ে যান চলাচল করতে পারছেনা। রাস্তার দুপাশ দিয়ে ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া ভেঙে যাওয়া স্থান দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় জমে থাকা পানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে পড়ার পাশাপাশি ভেঙ্গে যাওয়া ওই স্থানে মটরসাইকেল চালকরা পড়ে যাচ্ছেন।

অপর দিকে বিপরিত থেকে আসা ভারী যানবাহন চলাচলের সময় ভ্যানসহ অটো গাড়ির, সিএনজি ও মটরসাইকেল চালকরা পড়ে পানি ও কাদার মধ্যে পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রায় ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। অপর দিকে তানোর চৌবাড়িয়া সড়কের বেল পুকুরিয়া মোড়ের উত্তরের রাস্তার একটি স্থানে দুই ধারে রাস্তায় বড় দু’টি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা মোড় থেকে চৌবাড়িয়া হাটের প্রবেশ পর্যন্ত ১০ দশমিক ১৪ কিলোমিটার রাস্তাটি গত ২০২৩ সালের দিকে কাজ শেষ হয়। পুরো রাস্তা নতুন ভাবে তৈরি করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ রাস্তার অংশে সেটি করা হয়নি। ট্র্যাক্টর দিয়ে উল্টিয়ে তার উপরেই কার্পেটিং করা হয়। যার কারনে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন পথ চারীরা।

তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুরনাহার বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া স্থান গুলোতে জরুরী ভিত্তিতে ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ স্থায়ীত্বের জন্য সংস্কার করতে একটু সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।