দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার একটি ক্লুলেস (সূত্রহীন) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার চার দিনের মধ্যে ২ জন এবং সর্বশেষ পুলিশ শনিবার একজনকে ও সোমবার (১১ মে) একজনকে বিকালে দিনাজপুর আদালতে সোপর্দ করেছে।
মামলা সূত্রে প্রকাশ, বিরামপুর উপজেলার ৩নং খাঁনপুর ইউনিয়নের সন্দলপুর এলাকার পাকা রাস্তার পাশে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে জানতে পারে, লাশটি বিরামপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেনের।
পরবর্তীতে পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পারে, বাবুল হোসেন একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। তাঁর অটোরিকসাটি ছিনিয়ে নিয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাত্র ৪ দিনের মধ্যে ছিনতাইকৃত অটোরিকসা উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে বিরামপুর পৌর এলাকার হাতিডুব্বা নয়াপাড়া গ্রামের আসমত আলীর ছেলে লিখন মন্ডল (১৯) ও ইসলামপাড়া গ্রামের বিশ্বনাথ দোমাসুর ছেলে সাগর ঋষি দিপুকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
সর্বশেষ বিরামপুর থানা পুলিশ শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার আশুলিয়া থেকে বর্ষণ ঋষিকে (২১) এবং রবিবার (১০ মে) নোয়াখালীর সুধারাম থানা পুলিশের সহায়তায় হৃদয় ঋষি বাবুকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। ঋষি সম্প্রদায়ের এই তিন আসামি পেশায় জুতা সেলাইকারী (মুচি) পরিবারের সদস্য।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, ক্লুলেস ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুলিশ উদ্ঘাটন করে অটোরিকশা উদ্ধার এবং সর্বশেষ রবিবার একজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আগের তিন আসামি জেলহাজতে রয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সর্বশেষ রবিবার হৃদয়কে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড আবেদনসহ সোমবার (১১ মে) বিকালে দিনাজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।