আসন্ন ঈুল আযহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলায় কোরবানির জন্য খামারে মোটাতাজা করা হচ্ছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩ টি গবাদি পশু। এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার টি। উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টি। তাই বাড়তি লাভের আশায় পশুর বাড়তি যতœ আর লালন পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। তবে গো-খাদ্যর দাম বেশি হওয়াতে এর প্রভাব পড়তে পারে পশুর হাটগুলোতে। ক্রেতাদের গুনতে হতে পারে অতিরিক্ত টাকা।

জানাগেছে,দফায় দফায় গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে খামারিদের এখন খরচ বেড়েছে। ন্যায্য মূল্যে গরু বিক্রি করতে না পারলে লোকসান হবে বলে জানান অনেক প্রান্তিক খামারি। যেকারণে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে কোরবানির পশুর দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার খান এগ্রো ফার্মের স্বত্তাধীকারী রফিকুল ইসলাম খান জানান,বর্তমানে গবাদী পশুর খাদ্য খরচের মাত্র আগের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতি ভুষির বস্তায় দাম বেড়েছে ৩শ থেকে ৪শ টাকা। এছাড়া কাচা ঘাষের সাথে মিশ্রিত নেপিয়ার ঘাষ চাষের খরচ বৃদ্ধির ওপরেই আছে। তাই যেহারে পশু লালন পালনের খরচ বাড়ছে সেমোতাবেক খামারীরা তেমন লাভবানের আশা নেই বললেই চলে।

সিরাজগঞ্জ শহরতলির কাশিয়াহাটা এলাকায় অবস্তিত ছোঁয়ামনি ডেইরী ফার্মের স্বত্তাধিকারী হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন প্রতিটি গো খাদ্যর সাথে সাথে বেড়েছে চিকিৎসার খরচ। ভুষি,খড়,কলাই ছোলা,এ্যাংকরসহ বিভিন্ন খাদ্যর যেমন দাম বেড়েছে তেমনি বেড়েছে পশুদের ওষধের দাম। নানামুখি রোগের প্রতিষেধকের দাম বৃদ্ধির কারণে খামারীদের অবস্থা খুব একটা ভারোনা। আর প্রান্তিক খামারীদের অবস্থাতো আরো করুন।

খামারীদের মতে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে তাদের এবার বড় ধরনের অর্থ নৈতিক ব্যয় হয়েছে। তাই ভারতীয় গরু বন্ধসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কোরবানি সময় দেশের সীমান্ত সীলকরা হলে তাদের খরচ পুসিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।

প্রাণীসম্পদ কার্যালয় সূত্রে প্রকাশ, জেলার ৯ উপজেলায় খামার গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মোটাতাজা করেছে। এবছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ২ লাখ ৯৩ হাজার টি। এই চাহিদা মিটিয়ে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টি পশু সারা দেশে যাবে। এসব পশু মোটাতাজাকরণে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবার যাতে ব্যবহার না করে এজন্য প্রচারণা চালানো হয়েছে। জেলায় ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী পশুর হাটের মাধ্যমে এসব গবাদি পশু বিক্রি করা হবে।

এবিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডাঃ এ কে এম আনোয়ারুল হক আমাদের সময়কে গো-খাদ্যর দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিটি উপজেলার খামার পরির্দশন করে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ ওষুধপত্র দেয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের গো-খামারিরা পশু পালনে সচেতন। খামারিরা পশু পালনে কোন প্রকার ক্ষতি কারক ওষুধ ব্যাবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন।

এব্যপারে প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে খামারিদের প্রশিক্ষন দেয় হয়েছে। নিয়মিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে পশু গুলোর নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং খামারিদের পশু বিক্রয়ের সুবিধার্থে অনলাইনে প্রচার চালানোর ব্যবস্থা করা হবে। হাট গুলিতে ব্যবসায়িদের নিরাপত্তাসহ পশু পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য ভ্যাটেনারী টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলায় ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী পশুর হাটের মাধ্যমে এসব গবাদি পশু বিক্রি করা হবে।