নীলফামারী সহ সৈয়দপুরে কোরবানির হাট তেমন একটা জমে উঠেনি। সৈয়দপুর শহরের খামারে কোরবানির গরু ও ছাগল বেচাকেনা শুরু হয়েছে গেছে। প্রায় প্রতিটি হাটে দালালের ঝামেলা থেকে বাঁচতে ক্রেতারা খামারেই বেশি ভিড় করছেন। এই সব খামারগুলোতে কোরবানি পর্যন্ত গরু রাখা, কোরবানি, গরু আহত হলে ক্ষতিপূরণ ও মারা গেলে সমুদয় টাকা ফেরত দেয়া সহ নানা সুবিধা দিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করছেন খামারিরা। এর ফলে খামারে কোরবানির পশু কিনতে ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কোরবানির জন্য পশু ক্রেতাদের সুবিধা দিয়ে আসছেন সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি মহল্লায় ইউসুফ ডেইরি ফার্মের স্বাধিকারী আলহাজ্ব মিন্টু নামের এক যুবক। সেখানে তিনি কোরবানির জন্য নানান ধরনের গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। তাঁর খামারে বর্তমানে গরু রয়েছে ১৫০টি।আর ছাগল রয়েছে ১৭৫টি। কোরবানির উপযুক্ত একেকটি গরু ৬০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২/৩ লাখ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। খামারটিতে।
ইতিমধ্যে ৭০টি ষাড় কোবানির জন্য বুকিং দিয়েছেন ক্রেতারা। আর ছাগল বুকিং দেয়া হয়েছে ৫০ টি। এছাড়া সৈয়দপুর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠেছে ১০টিরও বেশি পশু মোটাজাতকরণের খামার। ওই সব খামারে কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি গরু ও ছাগল ।
খামারের স্বাত্বাধিকারী জামিল আশরাফ মিন্টু বলেন, ছেলের নামে খামারটি করেছি। ৩ থেকে ৬ মাস আগে বিভিন্ন হাটবাজার থেকে গরু ও ছাগল কিনে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করে হৃষ্টপিষ্ট করে গড়ে তুলেছি।
প্রায় ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। খামারে গরুকে কোনো ক্ষতিকারক ইনজেকশন বা হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় না। নিয়মিত যতœ, পুষ্টিকর খাবার এবং গোসলের মাধ্যমে গরুগুলোকে সুস্থ ও নাদুস-নুদুস করে তোলা হয়।
এখানে রয়েছে দেশি, শংকর, শাহিবল জাতের গরু। তাদের খাওযানো হয় খুদের ভাত, আলু সিদ্ধ, মসুর ডালের খোসা, খেসারি ডাল, গমের ভুস, বুটের খোসা, ভুট্টা ও গমের ভাত। এর ফলে কোরবানির প্রতিটি গরু ও ছাগল স্বাস্থ্যবান হয়। দেখতে ও হয় নজরকাড়া।
তিনি বলেন, যেসব ক্রেতাতের জায়গা নেই তাদের কোরবানির পশু কেনার পর খামারে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া গরু কোরবানি করা সহ বাসাবাড়িতে মাংস পৌঁছায় দেয়ার সুবিধা রয়েছে। একারণে তাঁর খামারে পশু ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ছে।
সময় টিভির নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি সাকির হোসেন বাদল বলেন, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ী জামিল আশরাফ মিন্টুর খামার থেকে প্রতিবছর কোরবানির গরু কিনে থাকি। এবারও কিনে খামারে রেখেছি। ওই খামার থেকে ইসলাম, শাওন, ডা. হাজী জয়নাল আবেদীন, আমিনুল, মুজিবুল হক, মোনায়েনুল হক মো. রায়হান সহ অনেকেই কোরবানির গরুর বুকিং দিয়েছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারাও গরু কিনেছেন এখানে।
সৈয়দপুর প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আব্দুল করিম জানান, ইউসুফ ডেইরি ফার্মটি মুলত কোরবানিকে টার্গেট করে গরু লালন-পালন করে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে ফার্মটি গড়ে উঠেছে। খামারটি সৈয়দপুর প্রাণি সম্পদ বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে থাকে বলে জানা যায়।