দুই দশক পরে চাঁদপুর জেলা সফরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উজ্জীবীত। শনিবার (১৬ মে) কুমিল্লা হয়ে তিনি চাঁদপুরে আসবেন।

ইতোমধ্যে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এবং সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী কাছে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দাবী জানিয়েছেন। জেলা পুলিশ জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন জেলা বিএনপি সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

তিনি বলেন, চাঁদপুরে ২০০ থেকে ২৫০ একর জমিতে ইপিজেড তৈরী করা সম্ভব। আমাদের দাবী থাকবে প্রধানমন্ত্রী এটি করে দিবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে জেলার কমপেক্ষ দেড় লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো অর্থনৈতিকভাবে আরো সমৃদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, কিছু ফ্যাসিবাদি লোক অর্থনৈতিক জোন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য চড়াচ্ছে। তাদের অবগতির জন্য বলছি অর্থনৈতিক জোন অনুমোদিত। এটির কাজ চলমান থাকবে। পাশাপাশি ইপিজেড স্থাপন করাও আমাদের দাবী।

সদর উপজেলার রমাপুর এলাকার বাসিন্দা ও ছাত্রদল নেতা কাকন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমণকে আমরা স্বাগত জানাই। আশা করি তিনি জেলার দৃশ্যমাণ হবে এমন উন্নয়নমূলক কাজের অনুমোদন দিবেন। সাধারণ মানুষ হিসেবে এটাই আমাদের চাওয়া।

হাজীগঞ্জ শহরের বাসিন্দা সাদ্দাম বলেন, হাজীগঞ্জ সদরের সবচাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে যানজট। উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ লাগবে জানজট নিরসনে বিকল্প সড়ক কিংবা উড়াল সড়ক নির্মাণের দাবী জানাই।

হাইমচর উপজেলার বাসিন্দা ও সমাজকর্মী মাসুদ মিয়া বলেন, হাইমচরের বড় সমস্যা হচ্ছে মেঘনার ভাঙন। অবহেলিত উপজেলার জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখবেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটাই আমাদের দাবী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে উজ্জীবীত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা গত এক সপ্তাহ প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা ও স্বাগত জানিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেছেন।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান আকাশ প্রধানমন্ত্রীর আগমণকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসবেন নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসীত। উনাকে গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিয়েছি এবং আমরা আনন্দিত। চাঁদপুরের নাগরিক হিসেবে বলতে চাই তিন নদীর মোহনা এটি শুধুমাত্র চাঁদপুরে। এই অপার সৌন্দর্য্য কাজে লাগিয়ে চাঁদপুরকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। এই তিন নদীর মোহনা দেখতে সারাদেশ থেকে মানুষ আসে এবং এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করে। আশাকরি প্রধানমন্ত্রী জেলাকে পর্যটন নগরী হিসেবে ঘোষণা দিবেন এবং বাস্তবায়নে প্রদক্ষেপ নিবেন।

জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগ বলেন, আমাদের অভিভাবক তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। ফেসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাঁদপুরে আসবেন। আমাদের অনেক চাওয়া আছে, তবে এর মধ্যে চাঁদপুর সরকারি কলেজের উন্নয়ন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কাজ ও মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো বাস্তবায়নে তিনি কার্যক্রর প্রদক্ষেপ নিবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি সম্পর্কে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচির ৫টি ভ্যানুতে আমাদের পাঁচটি স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এই কাজে নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ২হাজার পুলিশ সদস্য। জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এই প্রথম চাঁদপুরে সফর। এই সফরে চাঁদপুরবাসী ও আমরা আনন্দিত। মূলত তিনি সরকারি তিনটি কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে শাহরাস্তির ওয়ারুক খোর্দ্দ খাল, সদরের ঘোষেরহাটে বিশ্বখাল পুন:খনন এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। চাঁদপুরের ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের পাশাপাশি দেশের আরো ২২ জেলার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। সকলে সক্রিয়, সচেতন ও সচেষ্ট আছে। যেসব স্থানে নিরাপত্তার প্রয়োজন তা করা হয়েছে। আশা করছি আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।