লিবিয়াগামী বিস্ফোরক বোঝাই একটি ইউক্রেনীয় বিমানকে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যথাযথ নিরাপত্তা প্রটোকল না মেনে বিস্ফোরক পরিবহণের অভিযোগে বিমানটিকে পিয়ারকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছিল।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এয়ারপোর্ট অথরিটি (এএটিটি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাহামা থেকে আসা বিমানটি মূলত জ্বালানি সংগ্রহের (রিফুয়েলিং) জন্য গত বৃহস্পতিবার পোর্ট অব স্পেনের পিয়ারকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে কেপ ভার্দে হয়ে বিমানটির লিবিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রুট ও কার্গো নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা বিমানটিতে তল্লাশি চালান।

তল্লাশিকালে বিমানটির ভেতরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী ‘অঘোষিত’ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এর পরেই বিমানটিকে সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড বা উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়।

আটকের পর এয়ারপোর্ট অথরিটি ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অঘোষিত বিস্ফোরক পরিবহণের পেছনে বিমানের পাইলট বা ক্রু সদস্যদের সরাসরি কোনো আইনি দায়বদ্ধতা বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। সমস্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর সন্তোষজনক প্রমাণ মেলায় শুক্রবার (১৫ মে) বিমান ও তার ক্রু সদস্যদের ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ত্যাগ করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইংরেজিভাষী এই দ্বীপরাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের একটি অন্যতম প্রধান রুট বা হাব হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের পর থেকে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান অপরাধের কারণে দেশটিতে চার চারবার জরুরি অবস্থা (স্টেট অব ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করতে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিস্ফোরক বোঝাই ইউক্রেনীয় বিমান আটকের ঘটনাটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।