দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বৈগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পার্শের বিষাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অপর এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ মনিষা সরকার অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন আগে তিনি বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে বিষাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কামরুননাহার চায়না বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের কক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে যান। এ সময় কথোপকথনের একপর্যায়ে দুই শিক্ষিকার মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে বিষাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কামরুননাহার চায়না ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটে এসে মনিয়া সরকারকে হাত দিয়ে মুখে চড়, ঘুষি ও থাপ্পড় মারতে থাকেন। পরে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত আহত হন। পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে বিদ্যালয়ের কক্ষের মেঝেতে ফেলে দেন। এ সময় উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোজাম্মেল হক আহত হন। পরে আহত অবস্থায় মনিষা সরকারকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় বিষাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কামরুননাহার চায়না তাকে দেখে নিবে, রাস্তায় মারধর করবে এক প্রর্যয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ট ও সঠিক তদন্তের মাধধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে গত ২৩ মে বেলা ১১টায় ইউএনও কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষীসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে নির্বহী কর্মকর্তা কথাবার্তা মনোয়োগ সহকারে শুনেন। প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের কথা শুনেন। নির্বহী কর্মকর্তা উল্লেখিত তিন জনকে লিখিত ষ্টেটমেন্ট দিতে বলেন। পরে বিচারিক কর্যক্রমটির রিপোর্ট দিনাজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে প্রেরন করেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

এবিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এএম শাাহজাহান সিদ্দিক জানান তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তনি।