গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বারদের) পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার ভোরে মুসল্লিরা তালা ভেঙ্গে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুসল্লিরা।

এলাকাবাসী, মুসল্লি, উভয় পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলা বোয়ালী ইউনিয়নের গোসাইরবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার তিনটি সমাজের মানুষ নিয়ে গড়ে উঠেছে গোসাইবাড়ি জামে মসজিদ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার সিকদার পরিবার নিজেদের নানা বিরোধের জেরে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব শেষমেশ ওই মসজিদে জড়িয়ে পড়ে।

তাদের এক পক্ষের নেতৃত্বে বোয়ালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য কাশেম সিকদার ও অপর পক্ষের নেতৃত্বে ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আরফান সিকদার। তাদের এক গ্রুপ মসজিদে ইমাম নিয়োগ দিলে আরেক গ্রুপ তা বাতিল করে। সর্বশেষ গত শনিবার মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গেলে মসজিদের ভেতরেই তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর এশার নামাজের আগে বর্তমান মেম্বার কাশেম ও তার লোকজন অপর একজন ইমাম নিয়ে মসজিদে হাজির হন।

এসময় তারা ওই মসজিদের ইমাম নামাজ পড়াতে গেলে বাঁধা দেন। এতে বাঁধা দিতে গেলে বর্তমান ও সাবেক মেম্বারদের গ্রুপের মধ্যে মসজিদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় অন্যান্য মুসল্লিরা তাদের উভয় গ্রুপকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা বাড়ি ফিরে যান। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক কিৎিসা দিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনার পর ওই রাতের কোনো এক সময় মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেন বর্তমান মেম্বার কাশেমের লোকজন। পরের দিন রবিবার ভোরে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে দেখতে পান মসজিদে তালা ঝুলছে।

এসময় মসজিদের বাইরে কেউ একজন ফজরের আযান দেন। মুহুর্তের মধ্যে সে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠে। কিন্তু ওই আযানের ধ্বনি মসজিদে তালা ঝুলানো কারিদের কানে পৌঁছায়নি। এসময় মুসল্লিদের কেউ কেউ বর্তমান মেম্বারের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি উল্টো ক্ষিপ্ত হন। পরে তালা ভেঙ্গে মসজিদের ভেতরে ফজরের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, ওই সময় বর্তমান মেম্বার ফোনে বলেন যে, জীবনে বহু নামাজ পড়েছেন। এখন ৪/৫ মাস বিশ্রাম নেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে মুসল্লিরা জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা হলে তার সমাধান আছে। তাই বলে মসজিদে তালা দিতে হবে? মুসলমানের দায়িত্ব নামাজ আদায় করা। সেই নামাজ কি বাদ রাখা যায়? এ ঘটনায় এমন নানা প্রশ্ন মুসল্লিদের।

এ বিষয়ে এক গ্রুপের স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) আরফান সিকদার জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বকে বর্তমান মেম্বার মসজিদে ঢুকিয়েছে। তাদের কারণে তিনজন ইমাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তারপরও এক বিতর্কিত ইমাম নিয়ে কাশেম শনিবার মাগরিবের সময় মসজিদে আসেন। এসময় তার গ্রুপের আরো নারী-পুরুষও আসেন এবং গন্ডগোল করেন। এরপর এশার নামাজ আদায় করতে গেলে ইমামের জায়নামাজের ওপার শুয়ে পড়ে নামাজে বাঁধা দেন কাশেমের লোকজন। এসময় বাঁধা দিতে গেলে তারা মসজিদের ভেতরেই আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে। পরে মুসল্লিরা ফিরিয়ে দিলে সবাই চলে যাই। কিন্তু রাতে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেন কাশেমের গ্রুপরা। মসজিদে তালা দেখে কাশেমকে ফোনে চারি দিতে অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। ফোনে কাশেম জানায়, জীবনে বহু নামাজ পড়েছেন। এখন ৪/৫ মাস বিশ্রাম নেন। বিষয়টি স্থানীয় থানায় অবগত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মসজিদে তালা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অপর গ্রুপের স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) কাশেম সিকদার জানান, গত ৫ বছর ধরে মসজিদে বিরোধ চলছে। এর জেরে আরফান গ্রুপ প্রতি শুক্রবার আমাদের মারধরের চেষ্টা করেন।

সপ্তাহখানেক আগেও আমাদের মারধর করেছেন। শনিবার তারা হুজুর ও আমার ছোট ভাইকে মারধর করে। তবে মসজিদে তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমর ভাইকে মারধর করলে মসজিদে তালা দেওয়া হয়েছে। আহত ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে আসছি, এখন চাবি কোথায় আছে বলতে পারছি না বলে ফোন কেটে দেন এই মেম্বার কাশেম।

এব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনাটি জেনে সেখানে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তারা দুই গ্রুপই খারাপ। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।