জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সুনীল চন্দ্র সাহা (৬০) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা। গতকাল রোববার ২৪ মে বিকেলে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ সোমবার ২৫ মে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ৯ বছরের সুসম্পর্কের সুযোগে প্রতারণার ফাঁদ।
মামলার এজাহার ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ঢাকার পল্লবী থানার বাসিন্দা সুনীল চন্দ্র সাহার সাথে বাগেরহাটের রামপাল থানার কাপাসডাঙ্গা গ্রামের মোঃ ইনছান ফারাজীর (৪৩) গত ৯ বছর ধরে সুসম্পর্ক ছিল।
এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে সুনীল চন্দ্র সাহা ও তার সহযোগীরা ইনছান ফারাজীকে জানান যে, ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন দ্বিগুন মৌজায় সুনীলের মালিকানাধীন ১ একর জমি বিক্রি করা হবে। প্রতি শতকের মূল্য ধরা হয় ৫ লক্ষ টাকা এবং মোট জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫ কোটি টাকা।
চুক্তিপত্র ও চেক দিয়ে বিশ্বাস অর্জন আসামিরা ইনছান ফারাজীকে আশ্বস্ত করেন যে, প্রাথমিক চুক্তি হিসেবে প্রথমে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করলে বাকি টাকা আগামী ১ বছরের মধ্যে পরিশোধ সাপেক্ষে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে বিশ্বাস করে গত ০৫/০৯/২০২৪ তারিখ সকাল ১০ টায় ইনছান ফারাজী নগদ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আসামিদের হাতে তুলে দেন।
টাকা গ্রহণের সময় আসামিরা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বায়না চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন। পাশাপাশি ক্রেতার বিশ্বাস অর্জনের জন্য সোনালী ব্যাংক (গাজীপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখা) এর একটি চেক (পাতা নংঃ সি ই-১০/৯৯১১৪৪৪) প্রদান করেন সুনীল চন্দ্র সাহা।
চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর বাদী ইনছান ফারাজী অবশিষ্ট ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার জন্য আসামিদের সাথে বারবার যোগাযোগ করেন।
কিন্তু আসামিরা জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। সর্বশেষ গত ২০/০৪/২০২৬ তারিখ বিকেলে খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে আসামিরা ইনছান ফারাজীকে সাফ জানিয়ে দেয় যে তারা জমি লিখে দেবে না এবং এ বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
উপায়ান্তর না পেয়ে মোঃ ইনছান ফারাজী বাদী হয়ে দয়াল চন্দ্র সরকার (৬৪) সুনীল চন্দ্র সাহা (৬০) ও মো: বাদশা (৫৮)-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০২, তারিখ: ০৪/০৫/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা: ৪০৬/৪২০/৫০৬ পেনাল কোড)।
মামলাটি পিবিআই-এর শিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই খুলনা জেলা কার্যালয় স্ব-উদ্যোগে এর তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মো: মোস্তফা কামালের দিক-নির্দেশনায় এবং খুলনা জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার জনাব রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ২৪/০৫/২০২৬ তারিখ বিকেল ১৫:৩০ ঘটিকায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাট এলাকা থেকে মূল আসামি সুনীল চন্দ্র সাহাকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সুনীল চন্দ্র সাহা জমি বিক্রির নামে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ এবং পরবর্তীতে জমি না দিয়ে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করেছে।
মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা পিবিআই খুলনা জেলার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা জানান, “প্রতারণার মাধ্যমে এত বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন পিবিআই খুলনার এসআই (নিরস্ত্র) মো: আরিফুর রহমান ফারাজী। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পিবিআই সূত্রে জানা গেছে।