শেষ পর্যন্ত শঙ্কাটাই সত্যি হলো। আবারও চোটে পড়েছেন নেইমার। সেই চোটে আসন্ন বিশ্বকাপে নেইমারের প্রথম ম্যাচ খেলা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে! নেইমারের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার।

গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়েছেন, ডান পায়ের কাফ মাংসপেশিতে টান লাগার কারণে নেইমারকে প্রায় তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। লাসমার বলেছেন, ‘নেইমার গতকাল (বুধবার ব্রাজিলের প্রস্তুতি ক্যাম্প) গ্রাঞ্জা কোমারিতে যোগ দিয়েছে। সেখানে ওর সব ধরনের মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। শেষ পর্যন্ত এমআরআই স্ক্যান গ্রেড-২ পর্যায়ের মাংসপেশির টান ধরা পড়েছে।

নেইমার যে চোট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটা উল্লেখ করে লাসমার বলেছেন, ‘নেইমার বর্তমানে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ও খেলার উপযোগী হয়ে উঠবে।’এতে নিশ্চিত হয়েছে, আগামী রোববার পানামার বিপক্ষে ও ৫ জুন মিসরের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিও খেলা হবে না নেইমারের।

এছাড়া আগামী ১৩ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচেও নেইমারের খেলা নিয়ে সংশয় আছে।নেইমারের চোট প্রসঙ্গে গতকাল ব্রাজিলের মিডফিল্ডার কাসেমিরো বলেছেন, ‘কোনো খেলোয়াড়ই চোটে পড়তে চায় না। তবে আমরা আশা করি নেইমারসহ সব খেলোয়াড় সুস্থ ও ফিট হয়ে উঠবে। সামনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সবাইকে দরকার হবে।

নেইমার প্রসঙ্গে কাসেমিরো আরও বলেন, ‘চিকিৎসক ইতোমধ্যেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নেইমার প্রতিদিন আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় যাচ্ছে। আমরা সব খেলোয়াড়ের ফেরার অপেক্ষায় আছি। এখানে প্রত্যেক খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ।’

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো চূড়ান্ত সাফল্য পাননি। এর মধ্যে বারবার বিপত্তি বাধিয়েছে চোট। এই চোটের কারণেই ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের বাইরে যান নেইমার, সেই থেকে আর কখনোই ব্রাজিলের হয়ে খেলা হয়নি তাঁর।

প্রায় আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ডাক মিলেছে নেইমারের। কিন্তু সেখানেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। চোট কাটিয়ে ফেরার মধ্যে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটলে, আসন্ন বিশ্বকাপই শেষ হয়ে যেতে পারে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার।