বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন,যুদ্ধের ময়দান থেকে রাজনীতির ময়দান সর্ব ক্ষেত্রেই শহীদ জিয়া সফল ছিলেন। ভাগ্য,দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও জনগনের সমর্থন এবং ভালোবাসা শহীদ প্রেসিডেন্টকে রণ থেকে জন তে পরিণত করেছিল।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা , শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আজ (৩১ মে) রোববার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত এক স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহর সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর এর সঞ্চালনায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম এবং হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল।
এছাড়াও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী , আবদুল হাই , আলী আশরাফ, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, মিজানুর রহমান, শফিকুর রহমান , পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন ,মশিউর রহমান, মনিরুজ্জামান স্বাধীন, সামসুল আলম শামস, তাজিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হোসনে আরা নিলু, জেলা যুব দলের সহ সভাপতি তারিকুল ইসলাম চঞ্চল, আসাদুজ্জামান আসিফ, জেলা জাসাস সভাপতি শফিকুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা আহব্বায়ক রুহুল আমিন খান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মশিউজ্জামান, উপজেলা ছাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এম আর আল আমিন, পৌর ছাত্র দলের সদস্য সচিব তাজবীর হোসেন অন্তর , উপজেলা তাতী দলের সদস্য সচিব আলী আজগর , উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব জাকির মাহমুদ চঙ্কল বক্তব্য রাখেন।
স্মরণ সভায় প্রিন্স বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা , উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বনির্ভরতা এবং আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও অবদান নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির যেসব আদর্শ, মূল্যবোধ, জাতীয়তাবোধ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারণা রয়েছে, সেগুলোকেও জিয়াউর রহমান ধারণ ও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি শুধু ইতিহাস, আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক চিন্তার প্রতীক ছিলেন না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেসব আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং আদর্শিক চেতনা উভয়ই জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের প্রবর্তন করেন, যা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও দেশের কোটি মানুষের প্রেরণার উৎস।
প্রিন্স বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনীতি কালজয়ী ও প্রাসঙ্গিক বলেই শাহাদাতের পরও বাংলাদেশের জনগণ বারবার তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি আস্থা রেখেছে। জনগণ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর দুই উত্তরসূরি সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাঁর সন্তান তারেক রহমানের হাতে অর্পণ করেছে। এটি প্রমাণ করে যে ব্যক্তি জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও তার রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ জনগণের হৃদয়ে অম্লান রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন কর্ম, সততা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ গঠনে তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তারা বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করেই বিএনপি দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।
সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।